× ই-পেপার প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত ফিচার শিল্প-সংস্কৃতি ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

৭৪ কোটির খরচ বেড়ে ২৯৭ কোটি টাকা

এম আর মাসফি

১৭ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:৪৯ পিএম । আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:৫৭ পিএম

দেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পের একটি চট্রগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেল। ইতিমধ্যেই প্রকল্পটির ৮৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত ডিসেম্বরে এর উদ্বোধনও করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে শেষ সময়ে এসে প্রকল্পের খরচ বাড়ছে ৩১৫ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, ডলারের তুলনায় টাকার মান কমে যাওয়া এ ব্যয়বৃদ্ধির কারণ। তা ছাড়া নতুন কিছু কাজও যুক্ত হয়েছে প্রকল্পে। 

এমন প্রেক্ষাপটে শুধু টোলপ্লাজা নির্মাণেই খরচ বাড়ছে ৫৩ কোটি টাকা। এর ফলে ব্যয় গিয়ে ঠেকছে ২৯৭ কোটি টাকায়। অথচ প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সময় এ খাতে খরচ ধরা হয়েছিল ৭৪ কোটি টাকা। পরে প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে এ খরচ ধরা হয় ২৪৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা। সে হিসাবে বর্তমানে এ খাতে খরচ বেড়েছে ৪ গুণেরও বেশি। এছাড়া অন্যান্য খাতেও খরচ বেড়েছে অনেক। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই বেশি খরচের প্রস্তাবই আজ মঙ্গলবার উঠতে চলেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়।

যা ছিল প্রস্তাবনায় : প্রকল্পটির প্রস্তাবনা সূত্রে  জানা যায়, মূল প্রকল্পটি ছিল ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার। এতে সরকারের অর্থায়ন ছিল ৩ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা এবং চায়না এক্সিম ব্যাংকের প্রকল্প ঋণ ছিল ৪ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে এটি একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। পরে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ গিয়ে দাঁড়ায় ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। এবার আবারও এক বছরের মেয়াদ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে মোট ৩১৫ কোটি টাকা। চুক্তিকালের তুলনায় বর্তমানে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ।

কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় : পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রকল্পটির কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক খরচ বেড়েছে। তারমধ্যে ৭ হাজার ৬০০ বর্গমিটার টোলপ্লাজা নির্মাণে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ খাতে ফিজিবিলিটি স্টাডির সময় খরচ ধরা হয়েছিল মাত্র ৭৪ কোটি টাকা।। এর পর মূল ডিপিপিতে খরচ ধরা হয় ২১৬ কোটি টাকা। প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে খরচ ধরা হয় ২৪৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অর্থাৎ ফিজিবিলিটি স্টাডির তুলনায় খরচ বেড়েছে ৪ গুণেরও বেশি। আর মূল ডিপিপির তুলনায় বেড়েছে ৯০ কোটি টাকা।

প্রকল্পটির মূল কাজ ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার টানেল নির্মাণে দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপিতে খরচের প্রস্তাব করা হয় ৫ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। যা ফিজিবিলিটি স্টাডিতে ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এখাতে খরচ বেড়েছে ৭৭৩ কোটি টাকা। ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার টানেলে অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণে দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপিতে খরচ ধরা হয়েছে ৪৩৮ কোটি টাকা। যেখানে প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডিতে খরচ ধরা ছিল ৩৫৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এখাতে খরচ বেড়েছে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে ফিজিবিলিটি স্টাডিতে সার্ভিস এরিয়া খাতে থোক বরাদ্দ হিসেবে ৩৭৭ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছিল। এখন সেখানে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮৭ কোটি টাকা। এখাতেও খরচ বেড়েছে ১১০ কোটি টাকা। 

এছাড়া প্রকল্পটির পরামর্শক খাতে খরচ করা হচ্ছে ২৯০ কোটি টাকা, বৈদেশিক প্রশিক্ষণে খরচ করা হচ্ছে সাড়ে ৫ কোটি টাকা, ব্রিজ ভায়াডাক্ট নির্মাণে ১৮৭ কোটি টাকা, ইলেকট্রিকাল ইকুইপমেন্ট খাতে ৮১ কোটি টাকা, অনাবাসিক ভবন নির্মাণে ১৬ কোটি টাকা, স্যানিটেশন ও পানি সরবরাহে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৫ হেক্টর ভুমি রিকুইজিশন খাতে ৫ কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। 

বাস্তবায়নকারী সংস্থা সেতু বিভাগ জানায়, বর্তমানে বাস্তবায়ন পর্যায়ে পরিবর্তনের কারণে ব্যয়বৃদ্ধি, কয়েকটি খাতে কাজের পরিমাণ ও ব্যয় হ্রাস/বৃদ্ধি এবং ঋণ প্রদানকারী সংস্থার (চায়না এক্সিম ব্যাংক) দেয়া অর্থের ডলারের সঙ্গে মূল্য অবমূল্যায়ন, চুক্তি নবায়ন প্রভৃতি কারণে একদিকে প্রকল্পের খরচ এবং অন্যদিকে মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সেতু বিভাগ থেকে মোট প্রকল্পব্যয় ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা অর্থাৎ অনুমোদিত ব্যয় থেকে ৩১৫ কোটি টাকা বেশি ধরা হয়েছে। এক বছর বাড়িয়ে বাস্তবায়নের মেয়াদ করা হয়েছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর। এই দ্বিতীয় সংশোধন প্রস্তাব এর মধ্যেই কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

সেতু বিভাগ বলছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধের জন্য অবশিষ্ট ১ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার ডলার সমপরিমাণ ১১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা সরকারি খাতে সংস্থান রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশি টাকা ও মার্কিন ডলারের বিনিময় হারে তারতম্যের কারণে ডিপিএতে বরাদ্দকৃত ৬৯ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের বিপরীতে ১৫৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা খরচ বেড়েছে। প্রকল্পের মূল কন্ট্রাক্ট থেকে কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে কার্যক্রমের পরিধি পরিবর্তন করা হয়েছে। যেমন, টানেলের অ্যাপ্রোচ সড়ক গ্রেডে ডিজাইন করা হয়েছিল, পরে স্থানীয় চাহিদার প্রেক্ষাপটে গ্রেড সেপারেটেড সড়ক ডিজাইন করা হয়। এ ছাড়াও আন্ডারপাস, সার্ভিস রোড প্রভৃতি ক্ষেত্রে পরিমাণ ও ডিজাইনে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে; যার কারণে প্রকল্পের খরচ বাড়ছে।

এ ব্যয় বাড়ার আরেকটি কারণ সার্ভিস এরিয়ার তৈজসপত্র, ইলেকট্রনিকসামগ্রী, আসবাবপত্র ও গৃহসজ্জাসামগ্রী ক্রয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী সার্ভিস এরিয়া ফ্যাসিলিটির আওতায় বিভিন্ন আইটেম বাবদ ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার সংস্থান রয়েছে। সার্ভিস এরিয়া ফিট-আউট করতে ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক আইটেম, টেক্সটাইল, কাটলারিজ/ক্রোকারিজ আইটেম প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সার্ভিস এরিয়ার সরকারি খাত থেকে ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দুই প্রান্তে দুটি দোতলাবিশিষ্ট পুলিশ ক্যাম্প ও ফায়ার স্টেশনের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ দশমিক ২২ কোটি টাকা। প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে ভ্যাট ও আইটির জন্য ১৩ শতাংশ হারে সংস্থান রাখা হয়েছিল। পরে এ হার পর্যায়ক্রমে বেড়ে বর্তমানে ১৫ শতাংশ হয়েছে। এই ১৫ শতাংশ হার অনুযায়ী অবশিষ্ট চুক্তিমূল্যের ওপর ভ্যাট ও আইটি খাতে সংস্থান রাখায়ও খরচ বেড়েছে।

প্রকল্পটিতে খরচ বৃদ্ধির বিষয়ে প্রকল্পটির পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘মূলত ডলারের মূল্যবৃদ্ধি  এবং নতুন কিছু কাজ যুক্ত করার কারণে নতুন করে খরচ বাড়ছে। অন্যান্য খাতে খরচ বেড়েছে রেট শিডিউলের কারণে। তবে আমাদের যে খরচ হচ্ছে তা চুক্তিমূল্যের মধ্যেই রয়েছে। আর চুক্তি অনুযায়ী কাজ হচ্ছে।’

টোলপ্লাজা নির্মাণে ফিজিবিলিটির তুলনায় চারগুণ ব্যয় বাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডিতে ৭৪ কোটি টাকা থাকলেও মূল ডিপিপিতে কিন্তু ব্যয় ছিল ২১৬ কোটি টাকা। ফিজিবিলিটির বিষয়টি আমি বলতে পারবো না। তবে সেই সময়ই যাচাই বাছাই করে এটি নির্ধারণ করা হয়েছিল।’ 

প্রকল্পটিতে বেশি খরচের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, ‘প্রকল্পটির মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় আমি ছিলাম না। আগের সচিব পিইসি করেছেন। তিনি হয়তো সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করেই দিয়েছেন। তা না হলে একনেকের জন্য সুপারিশ করতেন না।’

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯, +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা