× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

যান্ত্রিক ত্রুটিতে চিনির উৎপাদন অর্ধেকে

মো. হাবিব ওসমান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:১৯ পিএম

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মোবারকগঞ্জ সুগার মিল। প্রবা ফটো

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মোবারকগঞ্জ সুগার মিল। প্রবা ফটো

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মোবারকগঞ্জ সুগার মিলে ২০২৩-২৪ মৌসুমে আখ মাড়াই উদ্বোধনের পর থেকে প্রায় অর্ধেক সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সুগার মিল বন্ধ ছিল। ফলে চলতি মাড়াই মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত চিনি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। গত ২২ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকালে মিলের ডোঙ্গায় আখ ফেলে উদ্বোধন করেন বিএসএফআইসির প্রধান প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম। এর এক দিন পর শনিবার ২৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টায় বয়লারে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায় মিলের কার্যক্রম। দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা পর পরদিন রবিবার ২৪ ডিসেম্বর বিকাল ৫টায় আবার মাড়াই শুরু করার ১৩ ঘণ্টা পর আবারও যান্ত্রিক ত্রুটিতে মাড়াই বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এদিন মিলের যন্ত্র বিভাগের শ্রমিক কর্মচারীদের চেষ্টায় ৮ ঘণ্টা পর মাড়াই কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। এতে মাড়াই শুরুর মাত্র ৪ দিনে ২৪ ঘণ্টাই বন্ধ থাকে মিলটি। এভাবে চলতি মৌসুমের ২৩ দিনে প্রায় অর্ধেকটা সময়ই বন্ধ ছিল সুগার মিল। যদিও মিলের রেকর্ড বলছে ২৩ কার্যদিবসে বন্ধ ছিল ১০৪ ঘণ্টা। 

মিলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছর মাড়াই শুরুর আগে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা বাজেট ধরে পুরাতন যন্ত্রাংশ পরিবর্তন ও মেরামতের কাজ করা হয়। তবে এ পরিমাণ বাজেট ব্যয় করা হলেও তা কাজে আসেনি।

চলতি মাড়াই মৌসুমে ৪০ দিনে ৫০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৩ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে মাড়াই শুরু করে। চিনি আহরণের গড় ধরা হয় ৬ শতাংশ। কিন্তু ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মিলের চিনি আহরণের গড় ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এদিন পর্যন্ত ২৩ কার্যদিবসে মিলটিতে চিনি উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৪০৪ বস্তা। গত বছর একই সময়ে ২৫ থেকে ২৭ হাজার বস্তা চিনি উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু চলতি মৌসুমে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চিনি উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, মিলের যন্ত্র মেরামতে যত টাকা খরচ হয়েছে, তার সবকিছু করা হয়েছে গোপনে। শ্রমিকরা বলছেন, আগে এসব কাজের জন্য ওপেন টেন্ডার করা হলেও এখন তা হয় না। তাদের অভিযোগ মিল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বড় অঙ্কের এ পরিমাণ টাকা শ্রমিক নেতা ও কর্মকর্তারা নামসর্বস্ব কাজ করে বাকিটা আত্মসাৎ করেছেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম মিলের যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি জানিয়ে বলেন, চিনি উৎপাদন নির্ভর করে মাড়াইয়ের ওপর। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাড়াই কম হয়েছে ফলে চিনিও কম হবে এটা স্বাভাবিক। তবে মিলের মাড়াই শুরুর আগেই সব ত্রুটিপূণযন্ত্র পরিবর্তন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হয়। চলতি মৌসুমে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকার বাজেট ধরে পুনঃমেরামতের কাজ করা হয়। মিলের টারবাইনে এ বছর ৩০ লাখ টাকা বাজেট ধরে মেরামত করা হয়। তারপরও ত্রুটিটা এবার একটু বেশি হচ্ছে। যে কারণে মাড়াই কম হয়েছে, ফলে চিনি উৎপাদনও কম হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য টেন্ডারের বিষয়ে বলেন, সব টেন্ডার ওপেন নয়। তবে অফিসিয়াল যে নিয়ম আছে, তা মেনেই সব কাজ করা হয়েছে। তবে মিলের মাড়াই স্বাভাবিক করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।

গত ২০২২-২৩ মাড়াই মৌসুমে মিলটি আখের অভাবে মাত্র ২৮ দিনে শেষ হয়েছে। ওই মৌসুমে কৃষকরা মাঠে আখ রোপণ না করায় মিলের রেকর্ডে সবচেয়ে কম সময় উৎপাদনে ছিল। এ সময়ে মিলটি ৩৫ হাজার ৩৬০ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১ হাজার ৭৪৫ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করেছিল। ওই বছর আখের মণ ছিল ১৮০ টাকা। যদিও মিলের রেকর্ড বলছে, এর আগে প্রতি মৌসুমে মিল এলাকার কৃষকরা ৮ থেকে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষ করতেন। নানা প্রতিকূল পরিবেশ এবং অল্প সময়ে ফুল-ফলসহ বিভিন্ন লাভজনক ফসল চাষ হওয়ায় কমে যাচ্ছে আখ চাষ। তবে চলতি মৌসুমে আখের দাম বৃদ্ধি করায় কৃষকরা আবার আখ চাষে ফিরছেন বলে জানান কৃষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: protidinerbangladesh.pb@gmail.com

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: pbad2022@gmail.com

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: pbonlinead@gmail.com

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: pbcirculation@gmail.com

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা