× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জয়দেবপুর কিচেন মার্কেট

এক যুগ ধরে ধুঁকছেন আড়াইশ ব্যবসায়ী

রেজাউল করিম, গাজীপুর

প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৯:৩২ এএম

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১০:৫০ এএম

 গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জয়দেবপুর কিচেন মার্কেট নির্মাণের এক যুগেও হাস্তান্তর হয়নি দোকান। প্রবা ফটো

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জয়দেবপুর কিচেন মার্কেট নির্মাণের এক যুগেও হাস্তান্তর হয়নি দোকান। প্রবা ফটো

গাজীপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র জয়দেবপুর বাজারে আধুনিক কিচেন মার্কেটের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ২০১২ সালে। নির্মাণকাজ হওয়ার পর এক দফা চলে সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজও। নির্মাণের শুরুতে এক যুগ আগে আড়াই শতাধিক ব্যবসায়ী দোকান পাওয়ার আশায় প্রায় ১১ কোটি টাকা দিয়েছেন। কিন্তু এত দিনেও তাদের দোকান বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে নির্মিত এ কিচেন মার্কেটটি চালু না হওয়ায় সড়ক ও ফুটপাথ দখল করে বেচাকেনা করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে জয়দেবপুর বাজারের যানজটে দুর্ভোগে শহরবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ২০০৯ সালে জয়দেবপুর বাজারে কিচেন মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয় তৎকালীন গাজীপুর পৌরসভা। ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন পৌরসভার মেয়র বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক মার্কেটটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে মার্কেটের নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১৮ হাজার ৬০০ বর্গফুট জায়গার ওপর নির্মিত মার্কেটের নিচতলায় রয়েছে মাছ, তরকারি ও অন্যান্য দোকান। দোতলায় রয়েছে রকমারি দোকানের ব্যবস্থা। 

আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি হওয়ার পর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব নেন আবদুল করিম। ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি গাজীপুর পৌরসভা সিটি করপোরেশনে রূপান্তর হয়। ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এমএ মান্নান কিচেন মার্কেটের উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধন হলেও বিভিন্ন কারণে আর দোকান হস্তান্তর করা হয়নি। এরপর জাহাঙ্গীর আলম মেয়র নির্বাচিত হলে চলে সংস্কারকাজ। মেয়র পদ থেকে জাহাঙ্গীর আলম বহিষ্কার হলে আরেক দফা বিপত্তিতে পড়েন ব্যবসায়ীরা। তারা মার্কেটের দোকান বুঝে পাননি। এরপর ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও কাউন্সিলর জাবেদ আলী কিচেন মার্কেটে দোকান বরাদ্দের কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেন বলে অভিযোগ। তবে আরেক দফা টাকা দিয়েও দোকান বুঝে পাননি ব্যবসায়ীরা। 

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে ও চুক্তিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, কিচেন মার্কেটের নিচতলায় কাঁচাবাজার ও মাছ বাজার এবং দ্বিতীয় তলায় শপিং দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাঁচাবাজারের জন্য দোকানপ্রতি নেওয়া হয় ১ লাখ ২০ হাজার। সেখানে ৭১ জন ব্যবসায়ী থেকে নেওয়া হয় ৮৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দোকানপ্রতি নেওয়া হয় ৬১ হাজার টাকা। সেখানে ৮৮ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। দ্বিতীয় তলার মোট দোকান ৯৬টি। এসব দোকানের সর্বনিম্ন ৮ লাখ, সর্বোচ্চ ১৩ লাখ টাকা। গড়ে ১০ লাখ টাকা হিসেবে টাকার পরিমাণ ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এভাবে সব মিলিয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিভিন্ন ব্যবসায়ী। 

জয়দেবপুর মৎস্য সমিতির সভাপতি নিখিল চন্দ্র বলেন, ‘ছয় মাসের জন্য বাইরে ব্যবস্যা করতে বলে ১২ বছরেও আর মার্কেটে উঠতে পারিনি। এই চিপার মধ্যে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে জোড়াতালি দিয়ে ব্যবসা করছি। ৮৮ জন মাছ ব্যবসায়ী টাকা দিয়েছে, তারা এখন দোকান না পেয়ে কষ্ট করে ব্যবসা করছে। দ্রুত আমাদের দোকান বুঝিয়ে দেওয়া হোক।’

জয়দেবপুর কাঁচাবাজার সমিতির সভাপতি মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘এই বাজারে ৪২ বছর ধরে কাঁচামালের ব্যবসা করে আসছি। কিচেন মার্কেটে দোকান পাওয়ার জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জমা দিয়েও রাস্তায় বেচাবিক্রি করছি। আমার মতো শত শত ব্যবসায়ী টাকা দিয়েছে। প্রথমে ১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ মাপের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার কথা ছিল। দোকানদার বেশি হওয়ায় তৎকালীন মেয়র মান্নান আলোচনাসাপেক্ষে আট ফুট করেছিলেন। পরবর্তী সময় সেই দোকান সাড়ে ছয় ফুট করা হয়েছে। এরপরও দোকান বুঝে পাইনি। ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা আটকে রেখেছে সিটি করপোরেশন।’

মনির হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘দোকান বরাদ্দের সময় ব্যবসা করার জন্য আট লাখ টাকা দিয়েছিলাম। দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও দোকান বুঝিয়ে দেয়নি সিটি করপোরেশন। বাজার কমিটিসহ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিটি করপোরেশন বরাবর কয়েকবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এরপরও কোনো কাজ হয়নি। দ্রুত ব্যবসায়ীদের দোকান বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

ব্যবসায়ী অন্তু চৌধুরী বলেন, ‘দ্বিতীয় তলার দোকানের জন্য ৮ লাখ টাকা দিয়েছি। সিটি করপোরেশনের মেয়র পরিবর্তন হয়, সবাই আশ্বাস দেয়, তবে দোকান পাই না। এত বড় কিচেন মার্কেট পড়ে রয়েছে অথচ আমরা বাইরে ব্যবসা করছি।’ 

গাজীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল করিম বলেন, ‘ব্যবসায়ী যারা টাকা দিয়েছে, তাদের লিস্ট, কাগজপত্র সব ঠিক করেছিলাম। কিন্তু সিটি করপোরেশন হওয়ায় আর সময় পায়নি। কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে যারা পুরোনো ও পাওয়ার যোগ্য তাদের দিয়ে এসেছিলাম। বাজারের এসব ব্যবসায়ী দরিদ্র। তাদের কেন ঘুরাচ্ছে বছরের পর বছর আমি বুঝলাম না। সবকিছু ঠিক করে রেখেছিলাম, তারা শুধু উদ্বোধন করবে। আমার যদি কোনো কাজ অসম্পূর্ণ থাকে তাহলে ডেকে পাঠাক।’

জানতে চাইলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এএসএম সফিউল আজম বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা তাদের অভিযোগ নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করেনি। সেখানে তাদের কী কী সমস্যা তা খোলাসা করেননি। আমি যতটুকু জানি মার্কেটের ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ৩ শতাংশ কাজ বাকিও রয়েছে। সামনে মিটিংয়ে বিষয়টি তুলে ধরা হবে। তারা (ব্যবসায়ীরা) কীভাবে বারবার বরাদ্দ নিয়েছে, সেটিও খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: protidinerbangladesh.pb@gmail.com

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: pbad2022@gmail.com

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: pbonlinead@gmail.com

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: pbcirculation@gmail.com

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা