× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাঁশের সাঁকোয় ২০ গ্রামের মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

ধামরাই (ঢাকা) সংবাদদাতা

প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৬:০৬ পিএম

ধামরাইয়ের যাদবপুর ইউনিয়নের রামভদ্রপাড়া ও পাঁচলক্ষ্মী এলাকার বংশী নদীর ওপর বাঁশ-কাঠের নির্মিত সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

ধামরাইয়ের যাদবপুর ইউনিয়নের রামভদ্রপাড়া ও পাঁচলক্ষ্মী এলাকার বংশী নদীর ওপর বাঁশ-কাঠের নির্মিত সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

ঢাকার ধামরাইয়ের যাদবপুর ইউনিয়নের রামভদ্রপাড়া ও পাঁচলক্ষ্মী গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে বংশী নদী। নদীর ওপর বাঁশ, কাঠ ও সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে নির্মিত প্রায় ১৬০ ফুট লম্বা সাঁকো। সাঁকোটি প্রায় ৬ বছর পূর্বে এলাকাবাসীর অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে চলাচলের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ঝুঁকি নিয়েই এ সাঁকো দিয়ে উপজেলার দুই পাড়ের ২০ গ্রামসহ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাসিন্দারা যাতায়াত করছেন। প্রতিদিন মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যানসহ হাজারো মানুষ চলাচল করছে এই ভাঙা সাঁকো দিয়েই। স্থানীয়দের দাবি এখানে স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণ করা হোক।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাধীনের পর থেকেই একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী। সেতু না হওয়ায় বর্ষার সময় স্থানীয়রা নৌকা দিয়েই পারাপার হতো। একসময় শুধু বাঁশ দিয়ে সাঁকো বানানো হয়েছিল। একজন দুজন করে মানুষ যাতায়াত করতে পারত। পরে ৬ বছর পূর্বে স্থানীয় লোকজন বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলে প্রায় ৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করে বাঁশ, কাঠ ও সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করে। নির্মাণে অবদান রাখেন আমরাইল গ্রামের আসলাম হোসেন। নিজেদের ও এলাকার মানুষের ভোগান্তি দূর করার জন্য নিজের বাড়ির কয়েকটি গাছ কেটে দেন সাঁকো নির্মাণের জন্য। এ ছাড়াও দেন নগদ টাকা।

সরেজেমিনে দেখা গেছে, ৬ বছরে সাঁকোর বাঁশ, কাঠ নড়বড়ে হয়ে গেছে। সাঁকোর মাঝে মাঝে বাঁশ নষ্ট হয়ে ভেঙে গেছে। এ অবস্থায় যেকোনো সময় বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। এরপরও চরম ঝুঁকি নিয়ে উপজেলার আমরাইল, রামভদ্রপাড়া, পাঁচলক্ষ্মী গবরা, কামারপাড়া, বিলকুষনাই, গাওতারা, ষাইট্রাসহ আশপাশের ২০ গ্রামের মানুষ চলাচল করছে।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য এই বাঁশের সাঁকোটিই একমাত্র ভরসা। সাঁকোটির বেহাল অবস্থা হওয়ার পরও চরম ঝুঁকি নিয়েই তাদের চলাচল করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় যেকোনো সময় বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে নদীতে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা। এখানে একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের দাবি তাদের।

স্থানীয় মিলন হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ভোগান্তির পর এলাকার সবাই মিলে টাকা তুলে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করে যাতায়াত করছি। স্থানীয় বাসিন্দা আসলাম হোসেন এলাকার সাঁকোটি নির্মাণে অবদান রাখেন। তার নিজের বাড়ির কয়েকটি গাছ ও অর্থ দিয়ে সাঁকোটি নির্মাণে সাহায্য করেছেন। মাঝে মাঝে নিজেরাই সাঁকোটি মেরামত করি। বর্তমানে সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় ভেঙেও গেছে। একেবারে ভেঙে পড়ার আগেই মেরামত করা জরুরি। এ ছাড়া দ্রুত এখানে স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’

হোসেন আলী নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘এখানে পাকা সেতু না থাকায় গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করা যায় না। নিরুপায় হয়ে নদীর ওপাড়ে আরেকজনের বাড়িতে গাড়ি রেখে মাসে মাসে ভাড়া দিতে হয়। এতে সব সময় চিন্তায় থাকি গাড়িটির কোনো ক্ষতি হয় কি না, রাতের আঁধারে চুরি হয়ে যায় কি না। সেতু থাকলে আর কোনো চিন্তা করতে হতো না। এ ছাড়া রোগী পরিবহনে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় প্রসূতি নারীদের হাসপাতালে নিতে। এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে।’

বিনোদিনী আদর্শ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সীমান্ত ভৌমিক, ফারহানা আক্তার, দ্বিপ্ত ভৌমিক, অর্পিতা সরকারসহ কয়েকজন বলে, ‘আমরা সব সময় ভয়ে ভয়ে এই সাঁকোটি পার হই। অনেক সময় ভ্যান, মোটরসাইকেল দিয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। তখন যাতায়াতে সমস্যা হয়, স্কুলে যেতেও অনেক দেরি হয়ে যায়। একটা বড় পাকা সেতু হলে আর কোনো সমস্যা হতো না।’ 

স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহণে আমসাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি পাকা সেতুর আশায় আছি আমরা। ধামরাইয়ের শেষ প্রান্তে এই এলাকা হওয়াতে আমরা অবহেলিত। কিছুদিন আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য এসেছিলেন। সে সময় তিনি ওয়াদা করেছিলেন দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেবেন। কিন্তু আজও তার কোনো বাস্তাবায়ন দেখছি না। জানি না আমদের আর কত অপেক্ষা করতে হবে।’ 

যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। তা ছাড়া কিছু দিন আগে আমাদের এলাকার সংসদ সদস্য এখানে এসেছিলেন। তিনি বলেছেন, এখানে সেতুর ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পর ছাড়া তো আর সম্ভব হচ্ছে না।’ 

জানতে চাইলে ধামরাই উপজেলা প্রকৌশলী তরুণ কুমার বৈদ্য বলেন, ‘রাস্তাটি যদি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতে সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অচিরেই আমরা খোঁজখবর নিয়ে দেখব।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: protidinerbangladesh.pb@gmail.com

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: pbad2022@gmail.com

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: pbonlinead@gmail.com

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: pbcirculation@gmail.com

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা