× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ চত্বরে দোকান অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

টাঙ্গাইল প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:৫৯ পিএম

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২৩:০৭ পিএম

মানববন্ধনে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং স্থানীয়রা। প্রবা ফটো

মানববন্ধনে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং স্থানীয়রা। প্রবা ফটো

টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বর থেকে দোকান অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং স্থানীয়রা। সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাসপাতাল চত্বরে এ মানববন্ধন করা হয়। 

জানা গেছে, ২৬ দশমিক ৫০ একর ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। এই হাসপাতাল চত্বরেই  প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ১৫ তলা ভবন। এ ছাড়াও এই চত্বরে রয়েছে মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল, নার্সিং ইন্সটিটিউটসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন স্থাপনা। এদিকে হাসপাতাল চত্বরে দোকান নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেয় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি। সেখানে একতলা ভবন নির্মাণ করছেন বরাদ্দ প্রাপ্ত ব্যবসায়ী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ দিতে সম্মত ছিলেন না বলে জানা গেছে। তারপরও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, স্থানীয় সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেনসহ কমিটির প্রভাবশালী রাজনৈতিক সদস্যরা নিয়ম বহির্ভূতভাবে জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

হাসপাতাল সূত্রে ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির একাধিক সদস্যরা জানান, শিলা আনছারী নামক একজন ব্যবসায়ী হাসপাতাল চত্বরে জায়গা বরাদ্দ চেয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে একটি আবেদন করেন। তিনি ওই জায়গায় এজেন্ট ব্যাংকের একটি শাখা, এটিএম বুথ এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পণ্যের দোকান করবেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন। এ ব্যাপারে হাসপাতালের উপপরিচালক ও তত্ত্ববধায়ক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিষয়টি জানান। কিন্তু মহাপরিচালক হাসপাতালের ভেতর দোকানের জন্য জায়গা বরাদ্দের অনুমতি দেননি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বাধা উপেক্ষা করে কমিটির সদস্যরা গত ১৩ নভেম্বর সভায় আবেদনকারী শিলা আনসারীর নামে ৭৫০ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দেন। 

বরাদ্দের চুক্তিপত্রে দেখা গেছে, বরাদ্দ প্রাপ্ত ব্যক্তিকে ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকার মধ্যে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে নিতে বলা হয়েছে। ১২ বছর মেয়াদি এই বরাদ্দ চুক্তিতে মাসিক ভাড়া ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। তিন বছর পর পর শতকরা ১০ ভাগ ভাড়া বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাপ্ত ভাড়া থেকে শতকরা ১০ ভাগ হাসপাতাল মসজিদের উন্নয়নে, ৩০ ভাগ রোগী কল্যাণ সমিতিতে, ২০ ভাগ হাসপাতাল কর্মচারী সমিতিতে এবং ৪০ ভাগ হাসপাতালের উন্নয়নে ব্যয় করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধান ফটকের ভেতর প্রবেশের পরেই উত্তর পাশে একতলা ভবন তৈরি হচ্ছে। ভবনটি ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন দেয়ালে আস্তর দেওয়ার কাজ চলছে। দোকানের সার্টার লাগানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। 

সেখানে কর্মরত রাজমিস্ত্রী শামীম মিয়া বলেন, ‘দুই মাস আগে তারা নির্মাণ কাজ শুরু করেন। রানা আনছারী (বরাদ্দ প্রাপ্ত শিলা আনছারীর স্বামী) নামক এক ব্যক্তি তাদের দিয়ে এ ভবন নির্মাণ করাচ্ছেন।’ 

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও উপপরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় দোকানের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছিল। তখন আমি জানিয়ে দিয়েছি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমতি ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়া বিধি সম্মত হবে না। পরে উনারা অনুমতি ছাড়াই বরাদ্দ দিয়েছেন। এজন্য সভার কার্যবিবরণীতে আমি স্বাক্ষর করিনি। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়েছে।’ 

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির একাধিক সদস্য এবং হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানান, ওই জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য কমিটির কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক সদস্য অর্ধ-কোটি টাকারও বেশি আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। তাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকলেও তারা বিধিবহির্ভূতভাবে হাসপাতালের ভেতর বাণিজ্যিক কাজে জায়গা বরাদ্দ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কমিটির সদস্য টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’ 

আরেক সদস্য টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান প্রিন্স বলেন, ‘বরাদ্দের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। এটা বরাদ্দ দিয়েছেন এমপি ও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সাহেব।’

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় রেজুলেশন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখানে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় হয়নি। বরাদ্দ দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদন লাগে না। এটা ব্যবস্থাপনা কমিটির এখতিয়ার। এর আগেও ক্যান্টিন ও গ্যারেজের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: protidinerbangladesh.pb@gmail.com

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: pbad2022@gmail.com

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: pbonlinead@gmail.com

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: pbcirculation@gmail.com

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা