× ই-পেপার প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত ফিচার শিল্প-সংস্কৃতি ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইটভাঁটার জন্য বেপরোয়া মাটি কাটায় ক্ষতির মুখে ফসলি জমি

সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিবেদক

০৯ মার্চ ২০২৩ ১৫:৪৭ পিএম । আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৩ ১৬:৫৪ পিএম

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে ইটভাঁটার জন্য মাটি কেটে উজাড় করা হচ্ছে তিন ফসলি জমি। প্রবা ফটো

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে রিফাতপুর গ্রামে বেপরোয়াভাবে মাটি কাটায় ক্ষতির মুখে পড়ছে তিন ফসলি জমি।  আবাদি জমির পাশ থেকে মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাঁটায়। অবৈধভাবে মাটি কাটার ঘটনায় এক মাটি ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে এতেও মাটি কাটা থামেনি। 

স্থানীয়রা জানান, রিফাতপুর গ্রামের বিশাল এলাকাজু্ড়ে রয়েছে তিন ফসলি জমি। এসব জমিতে প্রথমে চাষ হয় সরিষা, দ্বিতীয় দফায় চাষ হয় ইরি ধান এবং সবশেষে চাষ হয় আমন ধান। উপজেলার মালেক নামের এক মাটি ব্যবসায়ী রাতের আঁধারে ফসলি জমি থেকে দেদার মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করছে পাশের ইটভাঁটাগুলোতে। 

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করার জন্য কৃষিজমি, পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে তা ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে এর প্রয়োগ না থাকায় ভাঁটার মালিকরা বেপরোয়া। তারা এই আইন মানছেন না। এ ছাড়া অবৈধ ভাঁটার বিরুদ্ধেও নেওয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা। মানা হচ্ছে না নীতিমালা। দিন দিন তিন ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় এক জমির মালিক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই এলাকাজুড়ে বছরে তিনবার তিন রকমের ফসল উৎপাদন হয়। তবে ইদানীং মাটি ব্যবসায়ী মালেক তার সহযোগীদেরকে নিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যায়। রাত ৯টা থেকে ভোর বেলা পর্যন্ত চলে মাটি কাটার মহোৎসব। এরপর তা ইটভাঁটায় বিক্রি করে। এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অভিযোগ জানানো হয়।’ 

তিনি বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ জানানোর পর ৫ মার্চ রাতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন অভিযান চালান। এ সময় মাটিদস্যুরা মাটি কাটা বন্ধ করে পালিয়ে যায়। তবে অভিযান শেষে তিনি চলে যাওয়ার পর আবারও মালেকের সহযোগীরা মাটি কাটা শুরু করে।’

এ বিষয়ে কৃষক ফজল আলী ও তার ভাই আনোয়ার আলী বেপারি জানান, রিফাতপুরের চকে ৮০ শতাংশ জমিতে ইরি ধান আবাদ করেছেন তারা। পাশের জমি থেকে গভীর করে মাটি কেটে নেওয়ায় তাদের ধানক্ষেত এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম। ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাঁটায় বিক্রির অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট (এসিল্যান্ড) আব্দুল মালেক নামে একজনকে গত ২৬ জানুয়ারি আটক করেন। পরে তাকে তিন মাসের জেল দেন। তবে এরপরও অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ হয়নি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন বলে, ‘উপজেলার বেশকিছু জায়গা থেকে লিখিত অভিযোগ আসছে ফসলি জমির মাটি কাটার বিষয়ে। রিফাতপুর গ্রামের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা অভিযানে যাই। তবে আমাদের আসার বিষয়টি টের পেয়ে গেলে মাটি কাটা বন্ধ করে পালিয়ে যায়। রাত ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে আমি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। মাটিদস্যুদের ধরতে পারার সঙ্গে সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাটি কাটা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত অভিযান চলবে।’ 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিপন দেবনাথ বলেন, ‘মাটি কাটার ওখানে ভূমি অফিসার অভিযান পরিচালনা করেছেন। তবে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। দ্রুত এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯, +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা