× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মহেশপুরের ইমিটেশন পল্লীতে এক দিন

আব্দুর রহমান মিল্টন, ঝিনাইদহ

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৩:১২ পিএম

মহেশপুরের ইমিটেশন পল্লীতে এক দিন

ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা মহেশপুর। এই এলাকা এখন পরিচিতি পেয়েছে ইমিটেশন পল্লী নামে। দেশের ইমিটেশন জুয়েলারির অর্ধেকই তৈরি হয় এখানে। এই কাজে যুক্ত ৬ হাজারেরও বেশি কারিগর। যাদের অর্ধেকই নারী।  একটি উদ্যোগ কীভাবে হাজারো মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, মহেশপুর তার উদাহরণ...    

দেশের অর্থনীতিতে নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী উপজেলা মহেশপুরের ইমিটেশন গোল্ড জুয়েলারি পণ্য। একসময়ের শতভাগ আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে বর্তমানে এই শিল্পে দেশে যে ২০ শতাংশ ইমিটেশন গোল্ড জুয়েলারি তৈরি হচ্ছে তার অর্ধেকের জোগান আসছে ঝিনাইদহ থেকে। বছরে ঝিনাইদহ থেকে উৎপাদিত হচ্ছে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার গয়না। প্রতি মাসে এখানে ২০ লাখ জোড়া গয়না তৈরি করছেন এ শিল্পে জড়িত কারিগররা। এলাকাটি এখন ইমিটেশন পল্লী হিসেবে পরিচিত পাচ্ছে। এখানকার তিন হাজারের বেশি পরিবারে কারিগরের সংখ্যা ছয় হাজারের বেশি, যার অর্ধেকই নারী। কর্মসংস্থানের সুযোগ হওয়ায় ভারত সীমান্তবর্তী জেলাটিতে বদলে গেছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্রও।



দলবেঁধে কেউ কেউ ছাঁচে আর ডিজাইনে গলাচ্ছেন নানা ধাতব পদার্থ, কারও মনোযোগ নকশায়, কারোবা হাতে চলছে গয়নার চূড়ান্ত ডিজাইন। কেউ আবার পুঁতি সাজাচ্ছে, কোথাওবা চলছে স্বর্ণের সোনালি রঙের কাজ। এখানে এলে দেখা যায় কীভাবে একটি সাধারণ ধাতব নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অলংকারে রূপ নিচ্ছে। শিল্পের স্বীকৃতিসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি, কারিগরি সহায়তা আর উন্নত প্রশিক্ষণ পেলে নিজস্ব ডিজাইনের নিপুণ কারুকার্যখচিত এসব গয়না স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরেও রপ্তানি সম্ভব। এমনই আশা উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী আর কারিগরদের।

দেশীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, চীন এবং ভারতের উন্নত ডিজাইন ও অলংকারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়লেও দিন পাল্টাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের এসইপি প্রকল্পের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ আর আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অনেকটাই বদলেছে ইমিটেশন জুয়েলারির উৎপাদনের ধরন। তবে আমদানিনির্ভর এই শিল্পের কাঁচামাল ও কেমিক্যাল সহজলভ্য করার দাবি ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের।


ইমিটেশন জুয়েলারির দক্ষ কারিগর গৃহবধূ সোনিয়া খাতুন। বাড়িতে বসে গয়না তৈরি করে মাসে ৮ হাজার টাকারও বেশি আয় করেন। মহেশপুরের নওদাগ্রামে বিয়ের পর স্বামী মাসুম পারভেজের সংসারে এসে দেখেন স্বামী-শ্বশুরবাড়ির অনেকেই গয়না তৈরি করছেন, তাকে এ কাজে উৎসাহ না দিয়ে বলা হতো ‘তুমি পারবে না’, পারব না কেন এমন জেদ থেকেই সোনিয়া এখন স্বাবলম্বী আর দক্ষ কারিগর।

একই গ্রামের রেশমা বেগম নিজ বাড়িতে গয়না তৈরির কাজ করছেন সাত বছর ধরে। আগে সংসারের পাশাপাশি অন্যান্য কাজ করতেন, তবে গয়না তৈরির কাজ শেখার পর এটিই তার ব্যবসা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনের আয় ৪০০ টাকা। মাসে ১২ হাজার। 

১৫ বছর ধরে স্বামী-সন্তানসহ ময়না খাতুনের পুরো পরিবার গয়না তৈরি ও কেনাবেচায় যুক্ত। অনেকগুলো কারিগরও তাদের বাড়িতে গয়না তৈরির পেশায় যুক্ত। শুধু সোনিয়া, রেশমা বা ময়না খাতুনই নয়, মহেশপুরের চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার হাজার হাজার নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প এমনই। প্রশিক্ষণ আর সহায়ক কর্মপরিবেশে কেউ হয়েছেন দক্ষ কারিগর, কেউবা উদ্যোক্তা আবার কেউবা ঝানু ব্যবসায়ী। 

ইমিটেশন পল্লীর ইমরান সিটি গোল্ডের কারখানা মালিক ও ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন জানান, অসংখ্য বেকার তরুণ, শিক্ষিত যুবক আর স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে ইমিটেশন বা সিটি গোল্ডের কারখানায় কাজ করে বাড়তি উপার্জন করছে। কেউ সংসারে সহায়তা করছেন, কেউ পুরো সংসার চালাচ্ছেন। তিনি জানান, মহেশপুর উপজেলার আজমপুর, মান্দারবাড়িয়া ও নাটিমা এই ৩ ইউনিয়নের ১১টি গ্রাম ও পৌরসভাজুড়ে ইমিটেশন পল্লীর বিস্তৃতি।


বাংলাদেশে একটা সময় ছিল যখন নারীদের গয়না বলতে মূলত স্বর্ণ বা রুপার অলংকারই বোঝানো হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বর্ণ বা রুপার দাম বেড়ে যাওয়ায় বিকল্প হিসেবে চাহিদা বাড়তে থাকে ইমিটেশন বা প্লেটিং করা গয়নার। আরোহী সিটি গোল্ড হাউসের কারখানা মালিক সামাদ হোসেন বলেন, আগে দেশের সর্বত্র ইমিটেশনের যে গয়না পাওয়া যেত তার বেশিরভাগই ঢাকার সাভারের ভাকুর্তা ও বগুড়ার কারিগরদের হাতে তৈরি হতো। তবে কয়েক বছরের ব্যবধানে দেশে উৎপাদিত ৫০ শতাংশের বেশি ইমিটেশন জুয়েলারি  ঝিনাইদহের মহেশপুরের ইমিটেশন পল্লীতেই তৈরি হয়। বিশেষ করে দুলের জন্য ঝিনাইদহের ইমিটেশন পল্লী বিখ্যাত দেশজুড়ে। ঢাকা, রাজশাহী, নাটোর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, জামলপুর, সিলেট, হবিগঞ্জসহ সারা দেশে এখানকার ইমিটেশন গোল্ড জুয়েলারি পণ্য যায় বলে জানান ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা।

আল আমিন সিটি গোল্ডের মালিক আমিনুর রহমান বলেন, দেশের নানা প্রান্ত থেকে পাইকারি ব্যবসায়ী মহেশপুরে আসেন সিটি গোল্ড বা ইমিটেশন জুয়েলারি কিনতে, আবার ফোনে বা অনলাইনে অর্ডার দিলেও তা পৌঁছে দেওয়া হয় সেসব প্রতিষ্ঠানে। তার কারখানায় চারজন শ্রমিক রয়েছেন, যাদের বেতন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা।

ইত্যাদি স্টোর শোরুমের ম্যানেজার মাসুদ রানা বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের উঁচুতলার মানুষ ইমিটেশন গয়না ব্যবহার করেন। হাজার কোটি টাকার সেই ইমিটেশন গয়না এত দিন প্রতিবেশী দেশ ভারতের দখলে ছিল। এখন ভারতের বাজার কমে যাওয়ায় তারা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আর অটোমেশনে ইমিটেশন গয়না তৈরি করে বাংলাদেশের বাজার দখলের চেষ্টা করছে। খুব অল্প সময়ে বেশি আইটেমের গয়না তৈরি করতে পারছে তারা। 


ভারতের অটোমেশন বা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির তৈরি গয়না দেশের বাজারে এলেও, বাজার খুব একটা দখল করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মহেশপুর ইমিটেশন পল্লীর যশোর কালার হাউসের মালিক উদ্যোক্তা মেজবাহ উদ্দীন বলেন, তারা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে অনেক সময় ও শ্রম ব্যয় করে পর্যায়ক্রমে বাজারে নিজেদের তৈরি দেশীয় ইমিটেশনের গয়না ছাড়ার পর ভারতীয় ব্যবসায়ীরা অনেকটাই কোণঠাসা। কারণ ভারতের একটি কানের দুল দেশে বিক্রি হয় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। সেখানে নিজেদের তৈরি একটি কানের দুল, গয়না মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া রঙ চটে গেলেও পরিবর্তন করে নতুন গয়না দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন জানান, তামা, পিতল, ব্রোঞ্জ এই শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল, যার সবই আমদানিনির্ভর। বর্তমানে জাহাজভাঙা শিল্প থেকে আসছে তামা, পিতল ও ব্রোঞ্জসহ  কিছু কাঁচামাল। ফলে এই শিল্পের বাজারে আশার আলো দেখছেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। 

এদিকে এসব পণ্য দেশের নানাপ্রান্তে পৌঁছানো এবং বিক্রির সময় ট্রেনে, বাসে, মার্কেটে, হাটবাজারে প্রায়শই পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ অনেকের। মেমো, ট্রেড লাইসেন্সসহ কাগজপত্র দেখালেও ছাড়তে চায় না, চোরাই বা গোল্ডের ব্যবসায়ীসহ নানা জালে হয়রানি হতে হয়। শিল্পের স্বীকৃতি না থাকায় সম্ভাবনাময় এই শিল্পের পণ্য মার্কেটে কেনাবেচায় বড় ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় বলে ক্ষোভ ও হতাশা ব্যবসায়ীদের। 

আমদানিনির্ভর এই ইমিটেশন গোল্ড জুয়েলারির প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রশিক্ষণ না থাকায় ইমিটেশনের ছোট গয়না বা মালামাল তৈরি করে টিকতে পারছিলেন না এখানকার কারিগররা, ছিল আর্থিক সংকটও। তবে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ইফাদ ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, ঋণসহায়তাসহ সার্বিক সহযোগিতায় এ সেক্টর হয়েছে অনেকটাই পরিণত। বেড়েছে গুণগতমান, সম্প্রসারিত হয়েছে দেশের বাজারও। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শিশু নিলয় ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে সাসটেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রকল্পের মাধ্যমে এ পরিবর্তন দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে।


বেসরকারি সংগঠনটির ইমিটেশন গোল্ড জুয়েলারি প্রজেক্টের ম্যানেজার ইমদাদুল ইসলাম জানান, আগে এসব গয়নার ১০০ ভাগই ছিল আমদানিনির্ভর, চীন আর ভারতের দখলে ছিল বাজার। বর্তমানে সে পরিস্থিতি বদলে চাহিদার ২০ শতাংশ বাজার দখল করতে পেরেছে দেশীয় কারিগর ও কারখানাগুলো। এর ১০ শতাংশ তৈরি হচ্ছে সাভারের ভাকুর্তা ও বগুড়া জেলায়। বাকি ১০ শতাংশ ইমিটেশন গোল্ড জুয়েলারি তৈরি হচ্ছে ঝিনাইদহের মহেশপুরে। বছরে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার ইমিটেশন জুয়েলারি পণ্য উৎপাদনসহ হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে ঝিনাইদহের মহেশপুরের ইমিটেশন জুয়েলারি পল্লী থেকে। 

২০০৪ সালে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় একেবারে নিজস্ব উদ্যোগে গড়ে ওঠে সিটি গোল্ড নামে ইমিটেশন জুয়েলারি কারখানা। এখন হাজারো মানুষ ব্যক্তি উদ্যোগে ঘরে বসেই এই ইমিটেশন গয়না তৈরি করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। বদলে গেছে সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনযাত্রাও।

মহেশপুরের ইমিটেশন গোল্ড জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যবসায়ী নেতা সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশে ইমিটেশন জুয়েলারির হাজার কোটি টাকার একচেটিয়া বাজার এখনও ভারত-চীনের দখলে রয়েছে। তবে ভারতের বাজার কমলেও চীনের বাজার এখনও জমজমাট। তিনি বলেন, দেশীয় বাজারে নিজেদের গয়নার চাহিদা বাড়ছে, তবে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বাজার এখনও দখল করা সম্ভব হয়নি। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকতে শিল্পের স্বীকৃতি, শিল্পের সুযোগ-সুবিধা, বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ, অটোমেশনসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি কিনতে সরকারি সহায়তা আর কারিগরদের সরকারি-বেসরকারি নানা প্রশিক্ষণ, আমদানিনির্ভর কাঁচামালের সহজলভ্যতার সুযোগ করে দিলে ভারত-চীনের বাজার দখল করা অসম্ভব নয়। 

গত কয়েক বছরে করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ মন্দা এই শিল্পের বাজারেও প্রভাব ফেলেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাংক লোন, প্রশিক্ষণসহ সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এমনকি মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে কর্মসংস্থানসহ ইমিটেশন জুয়েলারি গয়না বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের চেষ্টা করা হবে বলে জানান ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক এসএম রফিকুল ইসলাম।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: protidinerbangladesh.pb@gmail.com

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: pbad2022@gmail.com

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: pbonlinead@gmail.com

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: pbcirculation@gmail.com

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা