× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিশ্লেষণ

অনেক যদি-কিন্তুর মারপ্যাঁচে ইমরান খানের ভবিষ্যৎ

রাসেল পারভেজ

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:৫৭ এএম

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তিন দফায় ২৭ বছর দণ্ডিত হয়ে কারান্তরীণ। ক্রিকেট কাপ্তান হিসেবে পাকিস্তানকে একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়া এই জাতীয় নায়ক এখন আইন-আদালতের ভাষায় ‘খলনায়ক’। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে একপ্রকার নিষিদ্ধই করা হয়েছে; তার খবর, ছবি গণমাধ্যমে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। তাকে যত বেশি অন্ধকারে ঢোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, ততই তিনি নিজ দেশে ও বহির্বিশ্বে নায়ক থেকে মহানায়ক হয়ে উঠেছেন। তাকে ঘিরে এই মুহূর্তে যত সব আলোচনা হচ্ছে, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এই যে, তাহলে ইমরান খানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎতের কী হবে? এর সরল কোনো জবাব নেই। বেশ কিছু ‘যদি-কিন্তু’র মারপ্যাঁচে এবং দেশটির সামরিক-রাজনৈতিক ইতিহাসে সম্ভাব্য উত্তরের আভাস পাওয়া যায়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে-পরে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে বহু উত্থান-পতনের গল্প রয়েছে। ইমরান খানও তেমন একটি গল্প। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সরকার উৎখাত করে বারবার পাকিস্তানিদের ওপর চেপে বসেছেন স্বৈরশাসকরা। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীও স্বৈরাচার আইয়ুব খানের আমলে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এই চড়াই-উতরাইয়ের গল্প দীর্ঘ। এখানে একটি বিষয় জোর দিয়ে বলা যায়- পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক বা স্বৈরতান্ত্রিক উপায়ে যিনি-ই ক্ষমতায় এসেছেন, তিনি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না করে স্বৈরমানসিকতায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন বা নিশ্চিহ্ন করার পথে হেঁটেছেন। ইমরান খান নিজেও সেই ভুল করেছেন এবং এখন তার ফলও ভোগ করছেন। তবে বিপুল জনগোষ্ঠীর কাছে তিনি এখনও নায়ক। তার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। 

পাকিস্তানে রাজনীতির গতিমুখ অনিশ্চিতার ছায়ায় মুড়িয়ে রাখে দোর্দণ্ড প্রতাপশালী সামরিক বাহিনী। তবে সেই অশান্ত রাজনীতির ফাঁকফোকর দিয়ে একুশ শতকের পাকিস্তানে নয়া চমক হয়ে আসেন ইমরান খান। বৈশ্বিক খ্যাতি, রোমাঞ্চকর কাজকর্ম, উদযাপনীয় জীবনযাপনের গল্পগুলোর সুবিধা রাজনীতির ময়দানে পেয়েছেন তিনি। ‘কাপ্তান’ হিসেবে শিকড় থেকে শিখর জয়ের যে আকাঙ্ক্ষা তার মধ্যে বরাবরই দেখা গেছে, ১৯৯৮ সালে সেই প্রত্যয় নিয়েই রাজনীতির মাঠে নামেন। বিশ বছরের রাজনৈতিক যাত্রার পর সাফল্য পান ২০১৮ সালে, জাতীয় নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। তবে এই অর্জন নিখাঁদ নয়। সাংবিধানিক ‘নো বল’ও করতে দেখা গেছে তাকে। সংবিধান পাশ কাটিয়ে জেনারেল ও সামরিক গোয়েন্দাদের সমর্থনে নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যেমন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে নওয়াজ শরিফকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইমরান খান সামরিক সহায়তা নেনÑ এটি ওপেন সিক্রেট। ইমরান খানের দলের করা দুর্নীতির মামলাতেই নওয়াজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে উৎখাত করা হয় এবং নির্বাচনে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পদে বসার চার বছরের মাথায় ইমরান খান পার্লামেন্টে অনাস্থায় ক্ষমতাচ্যুত হন। তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন, সেনাবাহিনী, অভ্যন্তরীণ গাদ্দার ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে তাকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ সেই একই বৃত্তে ক্ষমতার একই কেন্দ্র।

ক্ষমতাচ্যুত পাকিস্তানের প্রায় সব প্রধানমন্ত্রীই তাদের পরিণতির জন্য সামরিক বাহিনীকে দায়ী করেছেনÑ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে। একই কারণে বলা হয়, দেশটির কোনো প্রধানমন্ত্রীই পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। পাকিস্তানের ক্ষমতার ইতিহাস দুই-তৃতীয়াংশ সামরিক, বাকিটা বেসামরিক। অথচ কোনো জেনারেল বা সেনাপ্রধান তাদের কুকর্মের জন্য গ্রেপ্তার হননি। ক্ষমতাচ্যুত সব প্রধানমন্ত্রীই গ্রেপ্তার হয়ে জেলের ঘানি টেনেছেন। কথা পরিষ্কারÑ পাকিস্তানে রাজনীতিকদের চেয়ে জেনারেলরা বেশি প্রতাপশালী ও অভিজাত। যত অভিযোগই থাকুক না কেন, তাদের জেলে যাওয়া লাগে না। এই বিপজ্জনক সত্যের দেশ পাকিস্তান।

পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খানের উত্থান মূলত তরুণ ও দুর্নীতিমুক্ত দেশের স্বপ্ন দেখা নাগরিকদের সমর্থনে। একসময়ে ‘প্লে বয়’ খ্যাত ইমরান পাকিস্তানের ধর্মীয় রক্ষণশীলতার পথেও হাঁটতে বাধ্য হন। দেশের ধর্মীয় সংস্কৃতির পোশাক, আচরণ ও ভাষা যেমন তিনি নিজের করে নেন, তেমনি ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওয়াদাও করেন তিনি। তার এসব কর্মকাণ্ড ও প্রতিশ্রুতিতে বিরোধীরা বরাবরই ‘আইওয়াশ’ হিসেবে প্রচার করে গেছে। সেই সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সহায়তায় তার ক্ষমতার মসনদে বসার অভিযোগও বিশ্বজুড়ে প্রচার পেয়েছে। তবে বেসামরিক সরকার ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো সেই সামরিক বাহিনীর প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নিয়ে তাদের বিরাগভাজন হয়েছেন ইমরান খান। ফল যা হওয়ার, তা-ই হয়েছে। ক্ষমতা হারিয়ে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতাদের অনেকে কারগারে, অনেকে আবার দল ত্যাগ করেছেন। দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় নিজেও নির্বাচনে লড়াই করতে পারছেন না ইমরান খান। গণমাধ্যমে তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে; সেনাবাহিনী তার সব ধরনের প্রচার আটকে দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে- এরপর কী হবে তার রাজনৈতিক ভাগ্যে? 

পাকিস্তানে জাতীয় নির্বাচন ৮ ফেব্রুয়ারি। দীর্ঘদিন দেশটির প্রধান দুই দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ঘুরে ঘুরে ক্ষমতায় বসেছে আবার ক্ষমতা হারিয়েছে। তাদের পাশাপাশি পাকিস্তানজুড়ে তৃতীয় রাজনৈতিক দল হিসেবে উত্থান হয় ইমরান খানের পিটিআইয়ের। ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে পাকিস্তানের ‘শের’ খ্যাত নওয়াজ শরিফের পিএমএল-এন ও প্রয়াত বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি ভোটের মাঠ গুছিয়ে এনেছে। এই মুহূর্তে পিটিআইয়ের নেতারা কার্যত নিষ্ক্রিয়। দলটির সমর্থন নিয়ে যারা ভোটে দাঁড়াচ্ছেন তাদের ওপর জুলুম চলছে বলে পাকিস্তানের গণমাধ্যমে উঠে আসছে। ১ জানুয়ারি খায়বার পাখতুনখোয়ায় পিটিআই-সমর্থিত এক প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক দলের জন্য কঠিনতর অধ্যায়। এমন অবস্থায় দুটি শঙ্কাই কাজ করে- বিলীন হওয়া অথবা ঘুরে দাঁড়ানো। ইমরান খানের বেলায় কী ঘটবে, তা কিছুটা আঁচ করা যায়। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসার চেয়ে রাজনৈতিক উদাহরণগুলোর ওপর আলোকপাত করাই ভালো।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৬২ সালে স্বৈরাচার আইয়ুব খানের আনা রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। ১৯৭৭ সালে প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো জেনারেল জিয়া-উল-হক হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন; তার ফাঁসিও হয়। পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো বহুবার গ্রেপ্তার হন। ১৯৯৯ সালে নওয়াজ শরিফ দুর্নীতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে গ্রেপ্তার হন। ২০১৮ সালে ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন নওয়াজ শরিফ ও শহীদ খাকান আব্বাসিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব গ্রেপ্তারের ঘটনা পর্যালোচনা করলেও দেখা যায়, পরবর্তী সময়ে কারও রাজনীতি শেষ হয়ে যায়নি। কোনো না কোনোভাবে তারা, তাদের উত্তরসূরি বা দল ঘুরে দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে। তবে এ ক্ষেত্রে আরও কিছু সমীকরণ মিলতে হয়।

পাকিস্তানের অর্থনীতি, দেশটির অভ্যন্তরীণ ভারতবিরোধিতা, কাশ্মীর ইস্যু, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার সঙ্গে ভূরাজনীতি ব্যাপক প্রভাব রাখে। পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ইমরান খান ক্ষমতায় এসে হুংকার দিয়েছিলেন, ওই কাজ আর করতে দেওয়া হবে না। চীনের অর্থনৈতিক করিডোর ইমরানের আমলে গুরুত্ব পায়। ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে স্বায়ত্তশাসন বাতিল করার পর জাতিসংঘ ও বিশ্বকূটনীতিতে নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে নেমেছিলেন ইমরান খান। একই ইস্যুতে চীনকে পাশে ডেকে ভারতীয়দের চক্ষুশূল হয়েছিলেন তিনি। এই ক্ষেত্রে নওয়াজ শরিফ কিছুটা উদার, ভারতীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলতে চান তিনি। বেলুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে নওয়াজের। ফলে ভূরাজনীতির এই মারপ্যাঁচে ইমরান খান কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেনÑ এটিও তার রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। 

পাকিস্তানের প্রভাবশালী সাংবাদিক হামিদ মির তার এক নিবন্ধে ইমরান খানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলেন, ‘পাকিস্তানের সংবিধান টিকে থাকলে ইমরান খানও টিকে থাকতে পারেন। তা যদি আবার লঙ্ঘন হয়, তাহলে তার রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকা খুবই কঠিন।’ পাকিস্তানে এই সংবিধান বাঁচানোর দায়িত্বে দেশটির শীর্ষ আদালতের ভূমিকা প্রায়ই আলোচনায় উঠে আসেÑ ইতিবাচক বা নেতিবাচক; দুইভাবেই।

প্রায় দুইশ মামলা হয়েছে ইমরান খানের বিরুদ্ধে। তার মধ্যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ ও রাষ্ট্রের সঙ্গে বেইমানি করার তিন মামলায় তিনি এরই মধ্যেই দণ্ডিত হয়েছেন। তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অভিযোগ করেছেন, শীর্ষ আদালত রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে তাকে রাজনীতির মাঠ থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছেÑ পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট কী ইমরান খানকে মুক্তি দেবেন? সাংবাদিক হামিদ মির তার ওই নিবন্ধে বলেছেন, ‘আমার কাছে ইমরান খান গুরুত্বপূর্ণ নন, আমি মনে করি পাকিস্তানের সংবিধান একজন ব্যক্তির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং ইমরান খানের চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি সংবিধান।

সংবিধান টিকে থাকার সঙ্গে ইমরান খানের টিকে থাকার সম্পর্ক কী? ইমরান খান যদি সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তির খবর পান, তারপরও অনেক বেসামরিক আদালতে তার বিরুদ্ধে ১৮০টির বেশি মামলা বিচারাধীন। একটি সামরিক আদালতও তার জন্য অপেক্ষা করছে। এ অবস্থায় ইমরান খান নির্বাচনে অযোগ্য হয়েছেন। 

নওয়াজ শরিফের কথাই ধরুন; তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। প্রতিবারই মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তাকে সরকার থেকে উৎখাত করা হয়েছে। ২০১৭ সালে ইমরান খানের একটি আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছিলেন। অযোগ্যতা যথেষ্ট ছিল না। নওয়াজ শরিফ আরও অনেক মামলার আসামি ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার দলের অনেক নেতাকর্মী ইমরান খানের দলে যোগ দিতে বাধ্য হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সবাই জানত, ইমরান খান সামরিক বাহিনীর আস্থায় রয়েছেন। অনেকের অভিযোগ ছিল, কারচুপির নির্বাচনে মাধ্যমে পাকিস্তানের জনগণের ওপর ইমরান খানকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নওয়াজ পরিবারে নেমে আসে জুলুম। একদিন নওয়াজ শরিফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ তার বাবাকে কারাগারে দেখতে যান। বাবার সামনেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইমরান খান কারাগারে নওয়াজ শরিফকে নির্যাতন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। তাকে তার অসুস্থ স্ত্রী কুলসুম নওয়াজের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। তার স্ত্রীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি জেল কর্তৃপক্ষের কাছে তাকে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কুলসুম নওয়াজ একই দিনে মারা যান এবং তার মৃত্যুর অনেক ঘণ্টা পর তার স্বামীকে কারাগারে সেই খবর জানানো হয়েছিল। ইমরান খানের ইচ্ছায় শাহবাজ শরিফ এবং অন্য অনেক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

দোষী সাব্যস্ত ও অযোগ্যতা সত্ত্বেও নওয়াজ শরিফ রাজনৈতিকভাবে বেঁচে যান। তিনি আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে জোট করে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে ইমরান খানকে ছুড়ে ফেলে দেন। তার ছোট ভাই শাহবাজ শরিফ ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী হন। আসলে নওয়াজ শরিফই পাকিস্তানের বাইরে বসে জেনারেল আসিম মুনিরকে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শাহবাজ শরিফ এখন দাবি করছেন, নওয়াজ শরিফ চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হবেন। দোষী সাব্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও নওয়াজ শরিফ যদি টিকে থাকতে পারেন, তাহলে ইমরান খানও টিকে থাকবেন। জনগণের দৃষ্টির বাইরে রাখতে তাকে কারাপ্রকোষ্ঠে ভরা হলেও মানুষের মনের ভেতর এখনও সতেজ তাদের নায়ক ইমরান। ২০২২ সালজুড়ে তার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতাকর্মী ও জনতার ঢল, সেই প্রমাণ দিয়ে রেখেছে। তারা সেনাকুঞ্জে পর্যন্ত হামলা চালিয়ে তাদের ‘প্রিয়’ নেতাকে মুক্ত করার চেষ্টা করেছে। এসব তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ। 

আরেকটি কথা বলই যায়। ক্ষমতায় থাকাকালীন ইমরান খান সংবিধানকে পাত্তা দেননি। তিনি গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে উৎসাহিত করেন। এখন তার রাজনীতিতে টিকে থাকা হুমকির মুখে। একমাত্র সংবিধানের আধিপত্যই তাকে এবং তার দলকে বাঁচাতে পারে। ইমরান খানকে বুঝতে হবে- তিনি পাকিস্তানের ত্রাণকর্তা নন। প্রকৃতপক্ষে সংবিধান প্রতিটি পাকিস্তানির ত্রাণকর্তা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: protidinerbangladesh.pb@gmail.com

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: pbad2022@gmail.com

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: pbonlinead@gmail.com

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: pbcirculation@gmail.com

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা