× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আলোচনায় ৬০ শতাংশ ভোট

দীপক দেব

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৪ ০৮:৪৬ এএম

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৪ ০৮:৪৯ এএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ কাল রবিবার। বিএনপিসহ কয়েকটি দলের বর্জনের মুখে এই নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উৎসবমুখর করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায় আওয়ামী লীগ। ৬০ শতাংশ ভোট নিশ্চিত করার আলোচনাই এখন সর্বত্র। ক্ষমতাসীন দল সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, দেশি-বিদেশি সব পক্ষের কাছে নির্বাচনটিকে গ্রহণযোগ্য করতে হলে ৬০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রার্থী এবং কেন্দ্রীয় নেতারা এ নিয়ে অনেক বক্তৃতাও করেছেন। আছে দলের পক্ষ থেকে নানা পরিকল্পনা ও উদ্যোগ। আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড তো এই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের অপবাদ ঘোচানোর পাশাপাশি ভোটকে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে আগেই দলীয় মনোনয়নবঞ্চিতদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত করে দিয়েছে। 

দলটির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, এবার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনেক আগে থেকেই নানা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এই কাজের জন্য প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের। এ ছাড়া দলটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি করা হয়েছে যারা ভোটের আগে থেকেই প্রতিটি ভোটারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছে, কেন্দ্রে আসার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছে। অনেক আগে থেকেই আওয়ামী লীগের কাছে তথ্য ছিল বিএনপি ২০১৪ সালের মতো এবারও নির্বাচন বর্জন করবে। ভোট বর্জন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি আওয়ামী লীগকে বিপদে ফেলতে চেয়েছিল এমনটা মনে করেন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা। তাই আগে থেকেই তারা সতর্ক হয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন। দেশের ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) সহ ২৮টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। দলীয় প্রার্থী ছাড়াও এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, নিবন্ধিত অধিকাংশ দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ার পরও এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এখনও বিভিন্ন মহল থেকে নানাভাবে চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার বিষয়ে যেসব দেশের বেশি আগ্রহ ছিল তারা এখনও তৎপর। 

দলটির অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনে অধিকাংশ দলের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর তারা (বিএনপি ও তাদের মিত্রপক্ষ) এখন ভোটার উপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। আর এই ক্ষেত্র তৈরি করার জন্যই ভোটারদের কেন্দ্রে না আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ভোটের দিন ডাকা হয়েছে হরতাল। ভোটারদের কেন্দ্র থেকে দূরে রাখতে পারলে তারা (বিএনপি) পশ্চিমা বিশ্বকে বোঝানোর সুযোগ পাবে জনগণ এই ভোটে সাড়া দেয়নি। ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আটকে রাখতে পারলে তারা (বিএনপি) সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে আহ্বান জানাতে পারবে। এসব বিষয় মাথায় রেখে একটি প্রশ্নমুক্ত নির্বাচন করার জন্যই ৬০ শতাংশের ওপর ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে। নেতাকর্মীদেরও সেভাবেই কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, সারা দেশে আসনগুলোর ব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তাতে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ১৮০ আসনে ভোটের উপস্থিতি ৬০ শতাংশের ওপর হবে। এসব আসনের কোনো কোনোটিতে সেই সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত থাকবে। আর ১২০ আসনে ৬০ শতাংশের নিচে থাকবে ভোটার উপস্থিতির হার। এর মধ্যে ৪০টি আসন রয়েছে যেখানে ৫০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পড়বে। এভাবে হলেই গড় হিসেবে ৬০ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে, এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই সংখ্যাকে তারা সম্মানজনক মনে করছেন। যেটা দেশের জনগণের পাশাপাশি সারা বিশ্বের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা পাবে। কারণ আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণের কথা বলে আসছে। এজন্য জনগণের সর্বোচ্চ উপস্থিতির বিষয়টিকেই শুরু থেকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এবার দেশি-বিদেশি নানা পক্ষ তৎপর রয়েছে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মনে করেন। এজন্য আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থীকে যেন বাধা দেওয়া না হয় সেই নির্দেশও প্রতিনিয়ত দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নিজেদের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসবেনÑ ভোটারদের প্রতি এমন আহ্বান জানানোর পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। 

বিএনপি আজ শনিবার সকাল ছয়টা থেকে ভোটের পরদিন ৮ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত হরতাল ডেকেছে। এই অবস্থায় ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বিশেষ কোনো উদ্যোগ না নেওয়া হলেও দলটির দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা এই বিষয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভোটারদের কেন্দ্রে আনার জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা রাখিনি। গণতন্ত্রে সব সময় দেখা যায়, কোনো নির্বাচন হলে, ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা, ভোটারদের কেন্দ্রে আনাÑ এটা আমাদের নেতাকর্মীদের টিম আছে, এই টিম সে কাজটা করবে। বেশিরভাগ ভোটার স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসবে। কেউ ভোট দিতে আসতে একটু দেরি করতে পারেন, তাদের উৎসাহিত করার জন্য আমাদের টিম কাজ করবে। এই নির্বাচন বিদেশিদের গ্রহণযোগ্যতা পাবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে ইলেকশনটা হতে দিন। গ্রহণযোগ্যতা পাবে কি না এটা তো বিদেশিরাই বলবে। আমরা বলছি টার্ন আউট ও অংশগ্রহণ সন্তোষজনক হবে। এটা একটা ভালো ইলেকশন হবে, যদিও প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে নেই। বিএনপি থাকলে ইলেকশনটা আরও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হতো। বিএনপি নেই, তারপরও নির্বাচনটা প্রতিযোগিতামূলক হবে। 

বিগত তিন নির্বাচনের ভোটার উপস্থিতির হার বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছেÑ ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৮৭.১৩ শতাংশ। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৪০.০৪ শতাংশ। এই নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের মিত্র দলগুলো অংশ নেয়নি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল সবচেয়ে বেশি। এই নির্বাচনে ৮০.২০ শতাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। 

গত কয়েক দিন ধরে ভোটের প্রচার ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের অনেককেই ৬০ শতাংশ ভোট নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। গত ৩১ ডিসেম্বর ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নির্বাচনী পথসভায় ঝালকাঠি-২ আসনের নৌকার প্রার্থী ও ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু বলেন, ‘বিগত যত নির্বাচন হয়েছে, সেসব নির্বাচনের চেয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটু আলাদা। তার কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক একটি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে যাচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে কত ভাগ ভোটার ভোট দিয়েছে সেটাই আন্তর্জাতিকভাবে বিবেচিত হবে। তাই ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ভোটার উপস্থিত করতে হবে। এজন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। তাহলেই এই নির্বাচন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।’ 

একই দিন গত ৩১ ডিসেম্বর কামরাঙ্গীরচরে নির্বাচনী প্রচারের সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, ‘কমপক্ষে ৫০-৬০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি হতে হবে। দেখিয়ে দিতে হবে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে জনগণ নেই। এটা প্রমাণ করতে হবে। নির্বাচনে না আসার হটকারী সিদ্ধান্তের জন্য বিএনপির কর্মীরা তাদের নেতাদের ধাওয়া করবে।’

এই প্রসঙ্গে গত বৃহস্পতিবার আমির হোসেন আমু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চসংখ্যক ভোটার উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই। সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এজন্য ৬০ শতাংশের বেশি ভোটার উপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি।’ 

এ ছাড়া গত ১৩ ডিসেম্বর এক বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোটার কেন্দ্রে আনতে হবে। এবার দুই হাত জোড় করে ভোটারদের কাছে যেতে হবে। দুই হাত জোড় করে অনুরোধ করতে হবে, আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা ভোটকেন্দ্রে আসুন, ভোট দেন। আমাকে ভোট দেন আর না দেন, ভোটকেন্দ্রে আসেন, ভোট অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।’ 

ভোটার নিয়ে আওয়ামী লীগের টার্গেট কত জানতে চাইলে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের লক্ষ্য ৬০ শতাংশের ওপরে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য নিয়েই নেতাকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। 

৬০ শতাংশের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন বিএনপি থেকে বের হয়ে এসে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা শাহজাহান ওমর। কাঠালিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক পথসভায় ঝালকাঠি-১ আসনে প্রচারের সময় তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন দুই প্রকারের। একটা হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক, সব দল মিলে করে। সেখানে ২০, ৩০, ২৫ পার্সেন্ট ভোট পাইলেও সমস্যা নেই। আরেকটা নির্বাচন হলো কমপিটেটিভ, প্রতিযোগিতামূলক। এখানে যেহেতু বড় কয়েকটা দল নেই, এখানে যদি আমরা ৬০, ৭০, ৮০ ভাগ ভোট না দেখাতে পারি, মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনার দেশে ও বিদেশে অনেক শত্রু আছে, তারা চায় না উনি প্রধানমন্ত্রিত্ব করুক। যদি আপনারা ভোট সঠিকভাবে ৬০-এর উপরে না দিতে পারেন, তখন তারা প্রচার মাধ্যমে বলবে, এই ভোট হয় নাই। এই ভোটকে আমরা বৈধতা দেই না।’


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: protidinerbangladesh.pb@gmail.com

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: pbad2022@gmail.com

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: pbonlinead@gmail.com

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: pbcirculation@gmail.com

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা