× ই-পেপার প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত ফিচার শিল্প-সংস্কৃতি ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্ৰেক্ষাপট

মানবিক চেতনায় উদ্ভাসিত উৎসব

আফতাব চৌধুরী

২১ এপ্রিল ২০২৩ ০৪:৪৬ এএম

অলঙ্করন : প্রবা

বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের হৃদয় কাঁপানো প্রশ্ন 'জীবনে যাদের হর রোজ রোজা, ক্ষুধায় আসে না নিদ/ মুমূর্ষু সেই কৃষকের ঘরে আজ এসেছে কি ঈদ!' ছয়-সাত দশক আগেকার গল্পের স্মৃতি ঈদের চপলতা এবং দৃশ্য অনেকের চোখের সামনে ছায়ার মতো ভেসে চলে যাওয়া নতুনভাবে মানসপটে ভেসে ওঠে এবং তখনই বাল্য থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাইকে ছুঁয়ে যাওয়া ঈদের আনন্দের প্রসারতা, গভীরতার অনুধাবন।

ঈদকে আমরা একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে দেখেছি, সামাজিক উৎসব হিসেবে দেখেছি, বিভিন্ন ধর্মের, বর্ণের, বিভিন্ন শ্রেণির মানুষদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে আনন্দ উপভোগ করার সুবিধা দিয়ে রাষ্ট্রীয় কর্তব্য পালনের সদিচ্ছা হিসেবে দেখেছি। ঈদের অ বাণী : ‘সবারে আপন জানি, সবারে আপন মানি।' আজকাল বিভিন্ন সংস্থা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ক্রমে ক্রমে এগিয়ে আসছে এবং আমরা আশ্বান্বিত যে একদিন উৎসব প্রকৃতার্থেই সর্বজনীন রূপ নেবে। সর্বসমাজের মানুষ ঈদের আনন্দ উপভোগ করবে, প্রীতি-ভালোবাসা বিনিময় করে বিভেদের গণ্ডি ভেঙে সবাই ঈদের আনন্দে শামিল হবে। সমাজে সমাজে সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হবে, দ্বেষ- বিদ্বেষ লুপ্ত হয়ে নিখাদ ভালোবাসার এক আবহ সৃষ্টি হবে, সমাজে হানাহানি বন্ধ হবে। তখনই আমরা ঈদের ‘আনন্দ'কে সত্যিকার অর্থে সবার মধ্যে সঞ্চারিত করতে সক্ষম হব। আনন্দের স্বরূপ হলো নিজেকে চারদিকে ছড়িয়ে দেওয়া। দুঃখ ভাগ করলে দুঃখ কমে, আনন্দ ভাগ করলে আনন্দ বাড়ে। আনন্দ তখনই পরিপূর্ণতা লাভ করে, যখন সে তাকে ছাপিয়ে অর্থাৎ তার যে আঁধার তাকে ছাপিয়ে তার রেশ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। আনন্দ বহির্মুখী, বিষণ্ণতা অন্তর্মুখী। আনন্দে অংশগ্রহণ করতে হলে চাই গ্রহণ করার মন। যে মন আসে নিরুদ্বিগ্নতা থেকে। ঘরে যদি খাবার না থাকে, ছেলেমেয়েরা উপোস থাকে, তবে যেকোনো পিতা-মাতা নিরুদ্বিগ্ন হতে পারেন না। আনন্দকে উপভোগ করতে, সম্পন্ন করতেই দানের ব্যবস্থা। ঈদ ও ফির একে অন্যের পরিপূরক। তাই ঈদের সঙ্গে ফিতরের (দান) এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। ইসলাম প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের পক্ষে তার গরিব প্রতিবেশীদের জন্য ১৬৩৩ গ্রাম আটা বা তার তুল্য মূল্য তাকে দিতে আদেশ দিয়েছে। উদ্দেশ্যটা স্পষ্ট, ঈদের দিনে কেউ যেন ভুখা না থাকে। খালি পেটে আনন্দ করা যায় না। ইসলামে বলেছে, তোমার প্রতিবেশীর খাওয়ার ব্যবস্থা করে তবে তুমি খাবে। তুমি খাবে আর তোমার প্রতিবেশী না খেয়ে থাকবে- এ রকম যে করে সে অতি নিচুস্তরের। ইসলাম এ ধরনের আচরণ প্রশ্রয় দেয় না, স্বীকার করে না। ইসলামে সুনির্দিষ্ট করে সমাজচেতনা ও সামাজিক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। তাই ঈদের (আনন্দের) সঙ্গে ফিতরা (দান) জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ফিতরা প্রত্যেক সামর্থ্যবানের জন্য। ঈদের দিনে বা তার আগে মানে ঈদগাহে যাওয়ার আগেই তোমার ওপর নির্ধারিত 'দান' গরিবের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এই দায়িত্বটুকু পালন প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মানুষের কর্তব্য। দান কখনো ক্ষয় হয় না। দান বরং উপার্জনের পথ খুলে দেয়। দান মানবিক চেতনায় উদ্ভাসিত করে উৎসকে আরও প্রাঞ্জল করে। দান করে যে গভীর আনন্দলাভ ও মানবিক উৎফুল্লতা আসে, তা-ই নিস্পৃহ দানের মাপকাঠি।

  • সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী
শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯, +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা