× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রেক্ষাপট

তামাক কোম্পানির হাতিয়ার

ড. মুহাম্মাদ ইয়াহ্ইয়া আখতার

প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২৩ ০০:৩৪ এএম

তামাক কোম্পানির হাতিয়ার

সাম্প্রতিককালে অধিকাংশ করপোরেট প্রতিষ্ঠান সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের (সিএসআর) অংশ হিসেবে সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করছে। সিএসআর হলো সমাজের কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টা ও অঙ্গীকার। ২০০০ সাল থেকে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সিএসআর উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্টে (ইউএনজিসি ২০১৩) ১২ হাজারের ওপর ব্যবসায়িক ও অব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং ১৪৫টি দেশ যোগদান করেছে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৫২টি প্রতিষ্ঠান এ গ্লোবাল কমপ্যাক্টে স্বাক্ষর করেছে।

সাম্প্রতিককালে সিএসআর কার্যক্রম ক্রমেই যেন বিজ্ঞাপন ও পরিচিতি বাড়ানোর প্রতিযোগিতার নামান্তরে রূপ নিচ্ছে। সাধারণভাবে সিএসআর কার্যক্রম বললেই চোখের সামনে নৈতিকতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনাকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের চিত্র ভেসে ওঠে। কিন্তু তামাকের মতো প্রাণঘাতী দ্রব্য উৎপাদনকারী কোম্পানির ক্ষেত্রে এটি কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয়।

তামাকের নেতিবাচক দিক থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতেই তামাক কোম্পানিগুলো নানাবিধ সিএসআর কার্যক্রমের ঘোষণা দেয়। তাদের এ সিএসআর কার্যক্রমের ফলে জনগণের মধ্যে তামাক কোম্পানি সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব তৈরির সম্ভাবনা দেখা দেয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিদ্যমান তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩)-এর ৫ নম্বর ধারায় তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচার নিষিদ্ধ এবং পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত বিধান নিয়ে বিস্তারিত বলা আছে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম সম্পর্কে সেখানে বলা আছে, ‘কোনো ব্যক্তি সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করিলে বা উক্ত কর্মকাণ্ড বাবদ ব্যয়িত অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, সাইন, ট্রেডমার্ক, প্রতীক ব্যবহার করিবেন না বা করাইবেন না অথবা উহা ব্যবহারে কোনো ব্যক্তিকে উৎসাহ প্রদান করিবেন না।’ এ অবস্থায় তামাক কোম্পানিগুলো ভিন্ন পন্থায় তাদের সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা তাদের নাম, সাইন, প্রতীক বা ট্রেডমার্ক ব্যবহার না করেও বিভিন্ন বড় বড় পাবলিক ইভেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা করে। এসব ইভেন্টে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে তারা ডেজিগনেটেট স্মোকিং জোন রাখতে প্রভাবিত করে। এমনকি বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে তারা ডেজিগনেটেড স্মোকিং জোন রাখার জন্য ডোনেশনও দেয়।

২০১২ সালে একটি তামাক কোম্পানি জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিয়েছিল। পরে বিভিন্ন তামাকবিরোধী মহলের বাধার মুখে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। করোনা মহামারির শুরুতে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার চালায় একটি তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদনকারী কোম্পানি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে তারা বিনামূল্যে পিপিই বিতরণও করে। এর আগে ২০১৪ সালের দিকে ইবোলার ভ্যাকসিন তৈরির দাবিও করা হয়। কিন্তু পরে বাস্তবে তা আর চোখে পড়েনি। এ ছাড়া ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক, বাংলাদেশ ২০১৯’ গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, একটি তামাক কোম্পানি বাংলাদেশ শ্রমিককল্যাণ ফাউন্ডেশনে ৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা প্রদান করেছে। এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট, তা হলো তামাক কোম্পানি সম্পর্কে জনসমাজে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করা।

বিদ্যমান ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩)-এ সামগ্রিকভাবে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচার নিষিদ্ধ করা হলেও তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি। ডব্লিউএইচও রিপোর্ট অন গ্লোবাল টোব্যাকো ইপিডেমিক ২০২১ প্রতিবেদন অনুযায়ী নেপাল, ইরান, উরুগুয়ে, নাইজেরিয়া, স্পেন, রাশিয়াসহ বিশ্বের ৬২টি দেশ তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও তামাক কোম্পানিগুলোর সিএসআর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় এফসিটিসির আলোকে বিদ্যমান ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) সংশোধন করে তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।

সামাজিক দায়বদ্ধতার বিজ্ঞাপন ঝুলিয়ে বিষ বিপণনের কারসাজিতে মৃত্যুর সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে দিন দিন। এ কূটকৌশল রোধ করে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে উল্লিখিত সংশোধনগুলো পাস করা এখন সময়ের দাবি।

 

  • অধ্যাপক, রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: protidinerbangladesh.pb@gmail.com

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: pbad2022@gmail.com

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: pbonlinead@gmail.com

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: pbcirculation@gmail.com

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা