× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

…তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে

সম্পাদক

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৪ ১০:৩৮ এএম

…তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে

‘আছে দুঃখ আছে মৃত্যু বিরহদহন লাগে,/ তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে’Ñ রবীন্দ্রনাথের এই গীতিকাব্যের অন্তর্নিহিত মর্ম যেন সীমার মাঝে অসীমের মতো। তিনিই বলেছেন, ‘দুঃখ এ নয়, সুখ নহে গো, গভীর শান্তি এ যে,/আমার সকল ছাড়িয়ে গিয়ে উঠল কোথায় বেজে।’ খ্রিষ্টীয় ইংরেজি নতুন বছর বরণে রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করেই যাত্রা শুরু। স্বাগত ২০২৪। বিগত বছরের নানা সংকট নিয়েই নতুন বছরে পদার্পণ করলেও আমরা প্রত্যাশা করি শান্তি, আনন্দ আর অনন্ত জাগরণের।


মানব সভ্যতার ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, প্রতিকূলতা-প্রতিবন্ধতা ছিল এবং আছে, থাকবেও। তবে এর মধ্য দিয়েই সময়ের মতো উজানমুখী থাকবে জনজীবন এবং অভিঘাতের সব ক্ষত সারিয়ে প্রত্যাশার বীজ চারা গজিয়ে পল্লবিত বৃক্ষে পরিণত হবে। বিদায়ি বছরের হিসাবনিকাশ করলে স্পষ্টতই দৃশ্যমান হয় জাতীয় জীবনে আমাদের অর্জন-সাফল্যের বিস্তৃত খতিয়ান। যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পাশাপাশি ধারাবাহিক তিন মেয়াদের সরকারের সময়ে রাজনৈতিক সংকট সত্ত্বেও বিশ্বদরবারে অন্যরকম দ্যুতি ছড়াচ্ছে বাংলাদেশÑ তাও অনস্বীকার্য। ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বৈশ্বিক বাস্তবতায় কতটা গুরুত্ববহ এরও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ নতুন করে নিষ্প্রয়োজন। বিদায়ি বছরের প্রথম থেকেই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা শুরু হলেও বছরের শেষের দিকে তা সংকটে রূপ নেয়। নতুন বছরে প্রথম সপ্তাহেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক যে রাজনৈতিক সংকট ও বিভাজন দৃশ্যমান, তা আমাদের প্রেক্ষাপটে নতুন নয়। কিন্তু এবার নির্বাচনকেন্দ্রিক বাড়তি কিছু অনুষঙ্গ রাজনৈতিক সংকট প্রকট করে তুললেও নিবন্ধিত বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আমরা অবশ্যই মনে করি, অবাধ-সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশ-জাতির সার্বিক প্রয়োজনে অপরিহার্য। গণতান্ত্রিক-রাজনৈতিক সংস্কৃতির অধিকতর ঔজ্জ্বল্যের জন্য তো বটেই, একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের নানা মহল এমনকি কোনো কোনো দেশে সরকারের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রেক্ষাপটেও প্রশ্নমুক্ত নির্বাচন সম্পন্ন করা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

চলমান নানামুখী বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও অর্থনৈতিক সক্ষমতার দিক থেকে দেশ ঘুরে দাঁড়ালেও বিগত বছরে মূল্যস্ফীতির কশাঘাতসহ ডলার সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টানাপড়েন এবং আর্থিক খাতে অনিয়ম আমাদের অর্থনীতির ওপর অনেকটা অভিঘাত ফেললেও সম্ভাবনার পথরেখা অস্পষ্ট নয়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ইত্যাদি নেতিবাচক বিষয় জনজীবনে প্রতিবন্ধক হয়ে আছে। কিন্তু আমরা মনে করি, দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পাশাপাশি সরকার যদি জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতার মতো বিষয়গুলো রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অগ্রভাগে রাখে, তাহলে সুশাসন নিশ্চিত হওয়ার পথ সুগম হওয়ার পাশাপাশি অনিয়মের অপচ্ছায়া দূর করা কঠিন কিছু নয়। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, অবিমৃশ্যকারিতা দেশ-জাতিকে অকল্যাণের ছায়াবৃত্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেÑ তা ভুলে না গেলেই মঙ্গল। এই দুঃখজনক অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ফের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার ও আন্দোলনের নামে নিয়মতান্ত্রিক পথ পরিহার করে সহিংসতার আগুনে জনজীবন ও সম্পদ দগ্ধ করার যে রাজনৈতিক কদর্যতা ও ভয়াবহতা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে, তা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক রাজনীতির সংজ্ঞাসূত্র সমর্থিত নয়। আমরা আশা করি, রাজনীতির ক্ষেত্রে যে অনিশ্চয়তা ও সংকটের মেঘ ঘনীভূত হয়েছে এর নিরসন সম্ভবÑ যদি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বচ্ছতার মানদণ্ডে উৎকীর্ণ হয়।

দেশ-জাতির উন্নয়ন-অগ্রগতির পথ মসৃণ করতে এবং অর্থনৈতিক বিকাশের পরিস্ফুটন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নিয়ে যেতে সর্বাংশে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। একই সঙ্গে সুশাসনের বিষয়টিও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি, সুশাসন নিশ্চিত হলে শুধু বিদ্যমান সংকটই নয়, কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নও বাস্তবায়ন সহজ হয়ে উঠবে। আমরা আশা করব, জনস্বার্থ ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার বাস্তবায়নে মনোযোগ আরও গভীর করা হবে। আমাদের সম্ভাবনার পরিসর ক্রমেই বাড়ছে, কিন্তু রাজনৈতিক হীনস্বার্থ হাসিলের জন্য তা যেন কোনোভাবেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত না হয়, এ ব্যাপারে সজাগ-সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অঙ্গীকার সাম্য প্রতিষ্ঠা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকারের নানামুখী প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বৈষম্য ক্রমাগত বাড়ছে এবং ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল অনেকের কদাচার এজন্য বিশেষভাবে দায়ী। আমরা প্রত্যাশা করব, এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান যেমন থাকবে অনমনীয়, তেমনি এর প্রতিবিধান নিশ্চিত করতে দুর্নীতির হোতাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

নতুন বছরে আমরা শুধু নতুন স্বপ্নযাত্রার কথাই বলব না, একই সঙ্গে এর বাস্তবায়নের ব্যাপারেও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সবার দৃঢ়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেব। ঘাত-প্রতিঘাত, অর্জন-অনার্জন, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি সবকিছুর হিসাব কষে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক শুদ্ধাচারের ব্যাপারেও আমরা গুরুত্বারোপ করি। আমরা প্রত্যাশা করি, যে সংকটে আমরা নিপতিত ছিলাম এবং যে সংকট সঙ্গী করে নতুন বছরে পদার্পণ করলাম, এর নিরসন ঘটবে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ও স্ব-স্ব ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল সবার স্বচ্ছতার পরীক্ষার মধ্য দিয়ে। দেশের অদম্য অগ্রযাত্রার পথে যা কিছু প্রতিবন্ধক এর প্রতিহতকরণে রাজনৈতিক-সামাজিক সব শক্তির যূথবদ্ধ প্রয়াস জরুরি। আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ। আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনেকের অযাচিত নাক গলানো বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভূরাজনৈতিক সমীকরণে বাংলাদেশের অবস্থানগত গুরুত্বের বিষয়কেই যেহেতু স্পষ্ট করে তুলেছে, সেহেতু এই গুরুত্ব থেকে শক্তি অর্জন করেই আমরা সবকিছুর বিনির্মাণে যেন অঙ্গীকারবদ্ধ থাকি। আমাদের পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, হকার ভাই-বোন ও শুভানুধ্যায়ী সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। শান্তি ও স্থিতিশীলতাই শান্তিপ্রিয় সবার মুখ্য প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: protidinerbangladesh.pb@gmail.com

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: pbad2022@gmail.com

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: pbonlinead@gmail.com

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: pbcirculation@gmail.com

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা