× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিশ্ববিদ্যালয় কলুষতার ছায়ামুক্ত হোক

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৩:৪০ পিএম

বিশ্ববিদ্যালয় কলুষতার ছায়ামুক্ত হোক

যেকোনো রাষ্ট্র কিংবা সমাজে প্রাথমিক থেকে উচ্চপর্যায়ের শিক্ষাঙ্গন জাতির আকাঙ্ক্ষার নাভিকেন্দ্র। প্রাথমিক শিক্ষাস্তর যেমন একজন শিক্ষার্থীর ভিত্তি গড়ে দেয় পরবর্তী পর্যায়ে ক্রমে ক্রমে উচ্চ শিক্ষাস্তর অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় দেশ-জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধারদের বিকশিত হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে ভূমিকার পথরেখা নির্মাণ করে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের শিক্ষাক্ষেত্র ক্রমেই যেন কলুষতার ছায়াবৃত্ত হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতি আমাদের কোনোভাবেই নিরুদ্বিগ্ন রাখতে পারে না। দেশের অন্যতম উচ্চ বিদ্যাপীঠ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অভিযুক্ত ওই অধ্যাপককে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন ওই বিভাগের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা উত্থাপিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। ভিন্ন একটি প্রতিবেদনে একই দিনে প্রকাশ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন অনুষদের এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ ছয় দফা দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। ইতঃপূর্বে এরকম ন্যক্কারজনক ঘটনা কুমিল্লা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে।

কয়েক দিন আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মতো বর্বরোচিত ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নতুন করে আমাদের শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশের বৈরী চিত্রই তুলে ধরেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে এক সমীক্ষায় প্রকাশ, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের শিকার নব্বই ভাগ ছাত্রীই অভিযোগ করেন না। কারণ, ন্যায়বিচার না পাওয়া ও চরিত্র হননের ভয়ে তারা তাড়িত হন। স্ট্রাটেজিস ফর প্রিভেন্টিং মাসকুলিনিটি অ্যান্ড জেন্ডার বেজড ভায়োলেন্স ইন হায়ার এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন ইন বাংলাদেশের ওই গবেষণায় জানা গেছে, নিপীড়কদের মধ্যে সহপাঠী, বহিরাগতদের পাশাপাশি শিক্ষকও রয়েছেন। নিপীড়ক শিক্ষকের তুলনামূলক হার প্রায় ৯ ভাগ। আমরা জানি, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন রোধে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র’ থাকলেও নির্যাতনের শিকার বৃহদাংশের সেখানে না যাওয়ার পেছনে উল্লিখিত কারণের পাশাপাশি সামাজিক চাপও বড় বাধা হয়ে আছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বিচারপ্রার্থী কেউ কেউ নানাভাবে হেনস্থারও শিকার হয়েছেন। এই বিষয়গুলো বিস্মিত এবং যুগপৎ আমাদের ক্ষুব্ধও করে তোলে। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর ভাষাও আমাদের জানা নেই। নির্যাতক কিংবা সমাজবিরোধীদের কাতারে যখন শিক্ষক বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষকের নাম অন্তর্ভুক্ত হয় তখন শুধু গ্লানির ছায়াই বিস্তৃত হয় না, একই সঙ্গে প্রশ্ন দাঁড়ায় এ কোন অন্ধকার ধেয়ে আসছে আমাদের চোখের সামনে।

আমরা জানি, বিশ্ববিদ্যালয় হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে উচ্চশিক্ষা প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে যা সমাজের বিকাশ কিংবা কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি জ্ঞানের উৎপত্তিও ঘটে। কিন্তু আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশার সর্বোচ্চ কেন্দ্রেও যখন কলুষতা-কদাচার-দুরাচারের ছায়া পড়ে তখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আশান্বিত হওয়ার পথ যেন রুদ্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ আছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি, রাজনৈতিক প্রভাব, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসহযোগিতামূলক মনোভাব, প্রভাবশালী মহলের প্রভাববলয় ক্রমাগত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।

আমরা এও জানি, সমাজে প্রতিবাদ করার শক্তি কিংবা মনের জোর সংগত কারণেই অনেকের নেই। এর মধ্যে যদি ন্যায়বিচার প্রাপ্তির প্রত্যাশা দুরাশায় পরিণত হয় তাহলে এর বহুমুখী বিরূপ প্রভাব ক্ষত বিস্তৃত করতে বাধ্য। আমরা এর নিরসন চাই। আমরা মনে করি, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি মনোযোগ বাড়ানো এবং নির্মোহ অবস্থান নেওয়া জরুরি। শিক্ষাঙ্গন কোনো নিপীড়কের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র হতে পারে না। যে অন্ধকার সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ শিক্ষাঙ্গনকে গ্রাস করছে সেই অন্ধকার দূর করতে কঠোর ও দৃষ্টান্তযোগ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় তো বটেই, প্রতিটি শিক্ষাকেন্দ্রকেই জ্ঞান ও মননশীলতার উপযুক্ত চর্চা কেন্দ্র হিসেবে গড়তে হবে। শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, তাহলে শিক্ষাঙ্গন জাতির দেহ। এই দেহ নিরোগ করা না গেলে রাষ্ট্র কিংবা সমাজের বিকাশের প্রত্যাশাও দুরাশার নামান্তর হয়েই থাকবে। এমনটি কোনো সভ্য কিংবা মানবিক সমাজে কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। আমরা দাবি জানাই, শিক্ষাঙ্গনের মতো জাতি গঠনের উর্বর ক্ষেত্রে মানুষরূপী যেসব কীট বিচরণ করছে তাদের মূলোৎপাটনে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখে সময়ক্ষেপণ না করে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে এর বিকল্প নেই।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: protidinerbangladesh.pb@gmail.com

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: pbad2022@gmail.com

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: pbonlinead@gmail.com

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: pbcirculation@gmail.com

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা