× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঢাকা মেট্রোরেল

উন্মোচিত নতুন দিগন্ত

হোসেন আবদুল মান্নান

প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৯:৩৩ এএম

হোসেন আবদুল মান্নান

হোসেন আবদুল মান্নান

রাজধানীর মতিঝিল থেকে উত্তরা পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হলো বেশিদিন হয়নি। মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই মনে হয় সাধারণ মানুষ এর সঙ্গে বেশ অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। কারণ সংবাদমাধ্যমের বদৌলতে গণমানুষের মধ্যে আশ্চর্যজনক সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মেট্রোরেলে চড়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও প্রতিদিন দুনিয়ার অনেক কিছু দেখার সুযোগ পাচ্ছে মানুষ। মতিঝিল থেকে উত্তরার প্রান্তিকে যেতে লাগে মাত্র ৪০ মিনিট। স্টপেজ বা স্টেশনের সংখ্যা ১৬। এত দিন আমাদের অনেকেরই বিদেশি অভিজ্ঞতা থাকলেও দেশের ছিল না। একসময় বিদেশ থেকে এসে পাতালরেল, উড়ালপথ, টানেল, মেট্রোরেলের গল্প কে না করেছি? এখন এর বেশ কিছু আমাদের হাতের নাগালে। চোখের পলকে আসা-যাওয়ার দৃশ্য দিনভর অবলোকন করছি। আমার ঘরের পাশ দিয়ে সকাল থেকে দিনভর আপ-ডাউন করছে মেট্রোরেল। জানালা খুলে তাকালেই দেখি দ্রুতগামী ট্রেনগুলো আসছে আবার কখনও ক্রসিং হচ্ছে। অথচ কয়েক বছর আগেও এমন দৃশ্য এ দেশের মানুষের কল্পনায় বিরাজ করত।

সেদিন অনেকটা আকস্মিকভাবেই মেট্রোরেলের অভিজ্ঞতা নেওয়ার লক্ষ্যে শাহবাগ থেকে উঠে বসি। এর আগেই আমরা কজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী মেট্রোরেলে উত্তরা যাওয়ার জন্য মনস্থ করি। সম্পূর্ণ বিনা কারণে শুধু অভিজ্ঞতার জন্য এই উদ্যোগ। প্রথমে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে টাকা দিয়ে টিকিট নিই। প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে কামরায় প্রবেশ করি। ধাক্কাধাক্কিতে কোনোক্রমেই দাঁড়ানো যাচ্ছিল না। দেখলাম খুব দ্রুত স্টেশনগুলো পার হয়ে যাচ্ছে। হাতলে হাত রেখেই একজন চাকরিজীবীকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি নিয়মিত যাতায়াত করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, উত্তরা থেকে মতিঝিলে অফিসে যাই, আবার আসি। প্রতিদিনই কি এমন অবস্থা? জি, কিছু করার নেই। বরং দিন দিন এটা বাড়ছে। আমাদের কাছে এ মুহূর্তে ভিড় বড় সমস্যা নয়, সময় বেঁচে যাচ্ছে এটাই আসল বিষয়। আমি বললাম, ধীরে ধীরে একসময় হয়তো সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। তরুণ যাত্রীটি বললেন, দু-চারটি বগি বাড়ানো হলে হয়তো একটু আরামদায়ক হতে পারে। আমি বললাম, মেট্রোতে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই যাত্রীর তাড়াহুড়ো আছে। কিছুটা ভিড়ও হয়। তবে তারা একটা সিস্টেম ডেভেলপ করে নিয়েছে।

ছবি : ফ্রিপিক

আমাদের আলাপনের মধ্যেই মাইক্রোফোনের শব্দের মতন নারী কণ্ঠে বেজে উঠল- উত্তরা ১১, দরজাগুলো বাম পাশ থেকে খুলবে। সবার সঙ্গে আমরাও নেমে যাই। ট্রেনটা ফের সব স্টেশন স্পর্শ করে মতিঝিলে যাবে। পুনঃটিকিট নিয়ে আমরা একটু অপেক্ষা করছিলাম। ভাবছি উত্তরার আশপাশ ঘুরে দেখা যায় কি না। কিন্তু না, টিকিট নিয়ে বের হওয়া সম্ভব নয়। কাজেই ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিই। মিরপুর, পল্লবী, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ইত্যাদি হয়ে ২৫ মিনিটে শাহবাগ। আমরা বিস্মিত হলাম, মাত্র ৫০ মিনিটে শাহবাগ থেকে উত্তরা ঘুরে আসা। এটা কি বিস্ময়কর নয়? না, এখন আর তা নয়।

শুনেছি, মেট্রোরেলে ছাত্রছাত্রীর জন্য হাফ ভাড়ার দাবি উঠেছে। কারা এসবের সঙ্গে জড়িয়েছে জানি না। এর আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে কি? নিতান্তই যদি রাজনৈতিক ইস্যু না হয়, এমনটা নিশ্চয় বিশৃঙ্খলার আরেক নাম হবে। সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। মেট্রোরেলের সুবিধা সবার জন্যই সমান থাকা বাঞ্ছনীয়। দেশের ভেতর অন্তত একটা জায়গায় মানুষের আস্থা শতভাগ বলীয়ান হয়ে বেঁচে থাক। লক্ষ করেছি, টিকিট কাউন্টারের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কেউ একটি শব্দও করছে না, যেন অপরূপ নীরবতা। আপাতত তলদেশে যা-ই ঘটুক, ওপরটা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতন থাক। দয়া করে ছাত্রদের জন্য এ উপকারটুকু আমরা না-ই করলাম। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের জীবনধারা নিঃসন্দেহে ব্যয়বহুল। আসলে উচ্চশিক্ষা সর্বত্রই ব্যয়সাপেক্ষ। ছাত্রদের ব্যয়ের অসংখ্য খাত রয়েছে, এর ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন। মেট্রোরেল থেকে প্রতিদিন সবাই একটু করে ‘সময়’ কিনে নিক, ক্ষতি কী? শিক্ষার অন্যান্য উপকরণ ও অনুষঙ্গের মধ্যে সময় সবচেয়ে মূল্যবান। এও ক্রয়যোগ্য এবং ব্যবহারযোগ্য হোক। সারা দুনিয়া তো তা-ই করে চলেছে।

মেট্রোযুগের সঙ্গে মহানগরব্যাপী বেপরোয়াভাবে ঘুরে বেড়ানো লক্করঝক্কর বাসগুলো নগরবাসী আর দেখতে চাচ্ছেন না। ডিজিটাল বাংলাদেশ আর আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশের সঙ্গে এসব একেবারেই বেমানান। এগুলো এখন নগরবাসীর চোখের বিষ। যাদের হাতে স্টিয়ারিং তুলে দেওয়া হয়েছে এরা বেশিরভাগই অদক্ষ-অযোগ্য চালক। বাসগুলো যেন রীতিমতো মৃত্যুদূত হয়ে রাস্তায় প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। এই পরিবহনগুলো গণপরিবহন হিসেবে গণ্য হতে পারে না। তবু এক অদৃশ্য শক্তির বলে এরাই রাস্তার রাজা, দামি-নামি গাড়িওয়ালাদেরও অনবরত হুমকি দিয়ে চলেছে। সাবধান, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন, কত কিছু! এসব উৎখাত করা এখন সময়ের দাবি। একটা প্রজন্ম এ আবর্জনা আর বেশিদিন মেনে নেবে না।

প্রাসঙ্গিকভাবে বলা যায়, ঢাকায় এখন রিকশার রাজত্ব আরও নিরঙ্কুশ ও সুবিস্তৃত। ইদানীং তাদের অবাধ বিচরণের সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে মনে হয়। কেউ বাধা দিচ্ছে না, যেকোনো ভিআইপি বা সংরক্ষিত রাস্তায় উল্টো দিকে যাতায়াত করছে। অভিজ্ঞতা বলে, বিগত ৪০ বছরে এত স্বাধীনতা তারা আর কখনও পায়নি। কাউকে পরোয়া করছে না, গাড়ির চেয়ে গতিময় তাদের চাকা। যেন কোথাও কেউ নেই। যে-যার মতো চলছে, আমাদের স্বাধীন সড়কপথ। ঢাকার একই সড়কে বাস, ট্রাক, লরি, নানাবিধ গাড়ি, থ্রি-হুইলার, হোন্ডা, বাইসাইকেল, রিকশা, ঠেলাগাড়ি, মাঝেমধ্যে ঘোড়ার গাড়িও দেখা যায়। গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায়, এ দৃশ্য পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না। বহুকাল ধরে শুনে এসেছি, ঢাকা থেকে পর্যায়ক্রমে রিকশা উঠিয়ে দেওয়া হবে। অবশ্য এর পরও রিকশার সংখ্যা অন্তত পাঁচ গুণ বেড়েছে।

ট্রাফিক সিগন্যাল এবং ঢাকার যানজট মোকাবিলা স্বপ্নের মতো মনে হয়। লাল নীল হলুদ আলোর সংকেত নিয়ে গাড়ি নড়ে ওঠার দৃশ্য পুনর্বার অবলোকন করে ঢাকার সিনিয়র সিটিজেনরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন কি? তবু আশায় বুক বেঁধে রাখা যায়, মেট্রোরেল, টানেল, ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের যুগে পৌঁছে হয়তো ট্রাফিক জ্যাম মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ার কোনো বিকল্প থাকবে না। আমাদের প্রত্যাশা, নগরবাসীর সামনে স্বস্তির আবহ আরও বিস্তৃত হবে।

  • গল্পকার ও কলাম লেখক
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: protidinerbangladesh.pb@gmail.com

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: pbad2022@gmail.com

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: pbonlinead@gmail.com

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: pbcirculation@gmail.com

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা