× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্ভাবনার সোপান

আগামীর কূটনীতি হতে হবে বৈচিত্র্যপূর্ণ ও কৌশলী

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৪ ১০:৩২ এএম

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ

ভূরাজনীতির মেরুকরণের নানা প্রেক্ষাপটে বিশ্বরাজনীতি-কূটনীতিতে নানারকম সমীকরণ চলছে। এই সমীকরণের বাইরে যে আমরাও নই এর সর্বসাম্প্রতিক নজিরও আছে। এমন প্রেক্ষাপটে আমাদের ভবিষ্যৎ কূটনীতি কোন পথে পরিচালিত হওয়া উচিত এ বিষয়টিও ইতোমধ্যে বহুবারই আলোচনায় এসেছে। মাল্টিপোলার বিশ্বে কূটনীতি প্রতিটি রাষ্ট্র কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। ভারতীয় উপমহাদেশে কূটনীতি ধারণাটি বহু পুরোনো। প্রাচীন গুপ্ত সাম্রাজ্যের রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের উপদেষ্টা ছিলেন চাণক্য সেন, যিনি কৌটিল্য বলেও বহুল পরিচিত। কৌটিল্য অর্থনীতিবিদ হিসেবে খ্যাতিমান হলেও কূটনীতিচর্চার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তও উন্মোচন করেছিলেন। কুট-কুটিলা এবং কৌটিল্য শব্দগুলো থেকে কূটনীতি ধারণার যোগ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর কিছু নয়। ভারতীয় উপমহাদেশে কূটনীতি শব্দটির আগমন ইংরেজি শব্দ ‘ডিপ্লোমেসি’ থেকে ব্যবহারিকভাবে ভিন্ন। চাণক্য মূলত রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সব বিষয়ে সমান মনোযোগ রাখার বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।


কৌটিল্যের কূটনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে রাজনীতি, অর্থনীতিসহ মনোবিজ্ঞানেও ছিল বাড়তি গুরুত্ব। উপমহাদেশে কূটনৈতিক কার্যক্রমের এই ধারাবাহিকতা স্বাধীন বাংলাদেশেও অনুসৃত হয়। বহুকেন্দ্রিক বিশ্বে কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সব বিষয়ে সমান মনোযোগ দেওয়ার প্রাসঙ্গিকতা এখন অধিকাংশ রাষ্ট্রই অনুসরণ করতে শুরু করেছে। বহুকেন্দ্রিক বিশ্বে কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক উপাদান বহু আগে থেকেই রয়েছে। পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে ভূ-রাজনীতি, অর্থনীতি, কৌশল-লেনদেন ও বাণিজ্যিক সম্পর্কসহ মনস্তাত্ত্বিক, সাংস্কৃতিক পর্যবেক্ষণ-বিশ্লেষণ।

১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের ম্যানিফেস্টোতে কূটনীতি প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু উল্লেখ করেছিলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।’ এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আমরা আমাদের কূটনীতি পরিচালনা করি। সবদিকে সমান গুরুত্ব দিয়ে নিরপেক্ষ কূটনীতি পরিচালনার কিছু সুবিধা রয়েছে। নিরপেক্ষ এই কূটনৈতিক দর্শন আমাদের নানাবিধ সুবিধাও দিয়েছে। আগেই বলেছি, বহুকেন্দ্রিক বিশ্বে একটি নির্দিষ্ট দেশ বা ভূখণ্ডে মনোযোগ নিবন্ধ রাখার সুযোগ নেই। অর্থনীতির গতিপ্রবাহ বিবেচনায় গোটা বিশ্ব বহুমাত্রিকতার দিকে যাচ্ছে। বহুমাত্রিকতা হচ্ছে বিশ্বায়নের ফলে। বিশ্বায়নের ফলে ধনতান্ত্রিক কাঠামোয় যে উৎপাদন ব্যবস্থা বিদ্যমান, তা গোটা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে। উৎপাদনকে দেশীয় গণ্ডিতে আটকে ফেলার সুযোগ নেই। বিশ্ববাজারে নিজেদের ব্যাপৃত করা কিংবা অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিসর বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশকেও বিশ্বায়তনে সংযুক্ত হতে হচ্ছে।

আমরা দেখছি, গোটা বিশ্ব ইউনোপোলার (এককেন্দ্রিক) থেকে মাল্টিপোলারের অভিমুখে যাচ্ছে। ইউনোপোলার ব্যবস্থায় বহু দিন ধরেই পরাশক্তি বলে বিবেচিত রাষ্ট্রগুলো নিজেদের প্রভাববলয় ধরে রাখার চেষ্টা করবে। মাল্টিপোলার বিশ্বে ক্ষমতার বাটোয়ারার পথে তারা নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করে ভূ-রাজনৈতিকভাবে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে পরাশক্তিগুলো নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে বিশ্ববাণিজ্য ও রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরাশক্তিগুলোর অবকাঠামো, সাংস্কৃতিক এমনকি সামাজিক উন্নয়ন ঘটেছে। প্রভাববলয় কাঠামো যখন খণ্ডিত হতে শুরু করে তখন সংগত কারণেই তারা নানাভাবে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা চালায়। উদাহরণ হিসেবে প্র্যাক্স-ব্রিটানিকার উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। আমরা জানি, ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবে ব্রিটেন এককালে বিশ্বব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক ছিল। ইউনোপোলার এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতা শুরু করে। আমরা জানি, এই প্রতিযোগিতার ইতিহাস মর্মন্তুদ। মাঝে দুটো বিশ্বযুদ্ধের অভিঘাত পৃথিবীকে বিপর্যস্ত করে তোলে। তারপর আবির্ভাব ঘটে বাইপোলার ব্যবস্থার। মনে রাখতে হবে, এই ব্যবস্থার আবির্ভাব ঘটার প্রেক্ষাপট ইউরোপ। এশিয়া থেকে জাপান পক্ষশক্তি হিসেবে থাকলেও দুটো বিশ্বযুদ্ধ ইউরোপে সংঘটিত হয়। তারপরও আমরা এই দুটো যুদ্ধকে ‘বিশ্বযুদ্ধ’ বলে অভিহিত করছি। কারণ গোটা বিশ্বব্যবস্থা এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল।

বিশ্বযুদ্ধের পর বাইপোলার বিশ্ব ক্রমেই মাল্টিপোলার বিশ্ব কাঠামোর দিকে ঝুঁকে পড়তে শুরু করেছে। মাল্টিপোলার বিশ্বে প্রতিটি রাষ্ট্র তার নিজস্ব উৎসের ভিত্তিতে কূটনীতি পরিচালনা করার চেষ্টা করে। শুরুতেই কৌটিল্য কিংবা ভারতীয় উপমহাদেশে কূটনীতির ধারণা উল্লেখ করার প্রাসঙ্গিকতা এখানে যাচাই করা জরুরি। ঐতিহাসিকভাবে আমাদের এখানে কূটনীতির দর্শন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে রয়েছে শক্ত ভীত ও ভাবনার সমতল জমিন। চাণক্য থেকে বঙ্গবন্ধুÑ হাজার বছরের ব্যবধানে কূটনীতি দর্শনের যে ধারাবাহিকতা আমাদের রয়েছে, সেগুলো নিয়েই কূটনীতি পরিচালনা করতে হবে আমাদের। ইতোমধ্যে কূটনীতি পরিচালনায় আমরা ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছি। তবে আগামী দিনে মাল্টিপোলার বিশ্ব নানাবিধ সংকট সৃষ্টি করেছে। এই সংকট ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় নিরপেক্ষ কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা জরুরি।

আগামী দিনে মাল্টিপোলার বিশ্বের জটিলতা বিবেচনায় রেখেই আমাদের কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাস্তবতা ও বিভিন্ন রাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতার বিষয়গুলোকে নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি রাষ্ট্রের সঙ্গেই আমাদের সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। আর সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে যে ধরনের কূটনৈতিক পদ্ধতির আশ্রয়ই নেওয়া হোক না কেন, কূটনৈতিক মহলের পেশাদারত্ব বাড়াতে হবে। যেহেতু বিশ্ব কাঠামো বহুকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে, তাই নীতিনির্ধারকদের দক্ষতাও বহুকেন্দ্রিক হওয়া বাঞ্ছনীয়। কূটনৈতিক নীতিনির্ধারকদের বিভিন্ন জোন ভাগ করে একাধিক দেশের দিকে নজর রাখতে হবে। শুধু তাই নয়, একাধিক ভাষাজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে অবহিত থাকাও জরুরি। আমরা দেখছি, ভৌগোলিক বাস্তবতায় একাধিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছে। এই অর্থনৈতিক কাঠামোগুলোর কারিগরি ও ব্যবহারিক দিকগুলোও বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে।

ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন অঞ্চলে বড় পোলার বা আঞ্চলিক শক্তির উত্থান ঘটছে। এই আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে বড় পরিসরে কূটনৈতিক তদবির চালাতে হবে এবং সম্পর্কোন্নয়নে ক্ষেত্রবিশেষে কৌশলগত অবস্থান নিতে হবে। কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনাকালে আমরা কোনো একটি পক্ষে ঝুঁকে পড়লে কৌশলগত সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা দেখা দেবে। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে পশ্চিমা মহলও চাইবে আমরা তাদের দিকে ঝুঁকে পড়ি। বাংলাদেশকে ঘিরে তারা নিজস্ব প্রভাববলয় টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করবে। এমনটি হলে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গেও আমাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে। কূটনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে তাই চৌকস হওয়া বাঞ্ছনীয়।

সমগ্র বিশ্বে অর্থনৈতিক কূটনীতি  এখন সম্পর্কের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিংবা সম্পর্কের নতুন মেরুকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আমরা জানি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পাশাপাশি গাজা-ইসরায়েল সংঘাত-সহিংসতার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব অর্থনীতিতে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্ত নই আমরাও। বিশ্ববাজারে আমাদের অর্থনীতিকে সম্প্রসারিত করা অনেক জরুরি। আমাদের অর্থনীতি সম্ভাবনাময়। কিন্তু মাল্টিপোলার বিশ্বে খুব বেশি দিন নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতনির্ভর থাকা যাবে না। বরং আমাদের উৎপাদিত পণ্য এবং শিল্প খাত সম্প্রসারণের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। বাড়াতে হবে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য এবং এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে মনোযোগী হতে হবে। ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। কারণ আমাদের নিজস্ব পণ্য অন্য কোনো দেশ উৎপাদন শুরু করলে আমাদের বাজার নষ্ট হবে। আমাদের অর্থনীতিতে উৎপাদনের বৈচিত্র্য যেমন দরকার, তেমনি পণ্যের বাজারের বৈচিত্র্যও নিশ্চিত করা জরুরি। এগুলো পরিকল্পনার বিষয়। এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রমের বৈচিত্র্য ও সুসংহত কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। কূটনৈতিক মহলকে বাণিজ্যিক সম্পর্কোন্নয়ন এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের জন্য উপযুক্ত দেশ নির্বাচন করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কাঠামো এবং কূটনৈতিক কার্যক্রমÑ এই দুটো ক্ষেত্রেই বহুমাত্রিকীকরণ জরুরি। এই বহুমাত্রিকীকরণ স্বল্প সময়ে প্রতিষ্ঠা করা কিছুটা কঠিন।

সম্প্রতি অর্থনৈতিক কূটনীতির বহুমাত্রিক কাঠামো গড়ে তোলার জন্য কিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অতীতে তৈরি পোশাক খাতসহ অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের জন্য পশ্চিমা দেশের ওপর নির্ভর করতাম। বর্তমানে বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগী হওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোতে রপ্তানি আয়নির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসছে। জাপান, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় নতুন বাজার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। কিন্তু বাজার সম্প্রসারণের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে।  আমাদের আর্থ-সামাজিক  প্রেক্ষাপট এবং বহির্বিশ্বে আগামীর বাংলাদেশকে উপস্থাপনে কূটনৈতিক কার্যক্রমে বৈচিত্র্য আনা যেমন জরুরি তেমনি কৌশলী হওয়াও প্রয়োজন। বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কৌশলী ও বৈচিত্র্যপূর্ণ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অনুশীলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গুরুত্ব আন্তর্জাতিক মহলে নতুনভাবে উপস্থাপনের সুযোগ ইতোমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ যেন আমাদের হাতছাড়া না হয়। আমরা যদি কৌশলী হই তাহলে শক্তিধর কোনো দেশও আমাদের ওপর তাদের স্বার্থে কোনো শর্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না। মাল্টিপোলার বিশ্বে এক বা একাধিক রাষ্ট্রনির্ভরতা কমাতে পারলে সমৃদ্ধ হবে আমাদের অর্থনীতি। ভৌগোলিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের পথও হবে সুগম। 

  • কূটনীতি-রাজনীতি বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদ
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: protidinerbangladesh.pb@gmail.com

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: pbad2022@gmail.com

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: pbonlinead@gmail.com

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: pbcirculation@gmail.com

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা