× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঈদে ঘরমুখো মানুষের শঙ্কা দূর করুন

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৪ ১৪:২০ পিএম

ঈদে ঘরমুখো মানুষের শঙ্কা দূর করুন

প্রায় প্রতি বছরই ঈদে ঘরমুখো মানুষের মধ্যে বিরাজমান বহুমাত্রিক শঙ্কার চিত্র সংবাদমাধ্যমে আগেই উঠে আসে। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। ২৮ মার্চ প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তা-ই প্রতিভাত হয়েছে। ‘ঈদযাত্রায় সড়কে ১৫৫ স্পটে যানজটের শঙ্কা’ শিরোনামের প্রতিবেদনের গর্ভে যে চিত্র উঠে এসেছে তাতে নিরুদ্বিগ্ন থাকার কথা নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদে ঘরে ফেরার আনন্দ মাটি করে দিতে পারে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কগুলোর বিভিন্ন স্পটে লেগে যাওয়া যানজট। এবার এ রকম ১৫৫টি স্থানে যানজটসহ এর পার্শ্ব বিড়ম্বনায় ব্যাপক ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ ও সরকারের একাধিক সংস্থার যৌথ পর্যবেক্ষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহল বিষয়গুলো আমলে রেখে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতায় আছে, অতীতে এরকম প্রেক্ষাপটে আগাম ব্যবস্থা নিয়েও ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা যায়নি। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-সিরাজগঞ্জ-রংপুর-সিলেটসহ বিভিন্ন মহাসড়কে অব্যবস্থাপনার যে চিত্র প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তা নিশ্চয় প্রশ্নবোধক।

আমরা দেখছি, ঈদে ঘরমুখোদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষ। সড়ক ও রেলপথে আগাম টিকিট বিক্রি শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই কালোবাজারি চক্রের কাছে টিকিট চলে যাওয়ার বার্তাও উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে। প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদনে রেলপথের যাত্রীদের শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়ার আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে। যদিও প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদযাত্রায় বিশেষ ব্যবস্থায় কিছু ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তরফে জানা গেছে, তবু সেবা ও নিরাপত্তা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে আশঙ্কা বিরাজ করছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সূত্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদেনই বলা হয়েছে, রেলওয়ের যথাযথ যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। নৌপথে বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের জন্য বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসের কথাও জানা গেছে। দুদিন আগে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত ভিন্ন একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার আকাশপথেও যাত্রীর চাপ অনেক বেশি।

নানামুখী বিড়ম্বনা কিংবা মানুষের বিষণ্ন হওয়ার প্রেক্ষাপট যে শুধু ঈদযাত্রাতেই সৃষ্টি হয় তাও নয়। জীবনযাত্রার স্তরে স্তরে হয়রানি-ভোগান্তির অন্ত নেই। তবে ঈদ উপলক্ষে তা আরও বেড়ে যায়, এটি হচ্ছে দুঃখজনক বাস্তবতা। এসবই যে সুশাসনের ঘাটতির ফল তাও আমাদের অভিজ্ঞতায় আছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মহলের দায়িত্বশীলদের আমরা যতটা বাগাড়ম্বর শুনি এর বিপরীতে অনেক ক্ষেত্রেই কাজের কাজ ততটা দেখি না। সময়ের কাজ সময়ে না করার বহুমুখী বিরূপ ফলের অনেক নজিরও আমাদের সামনে রয়েছে। ঈদে ঘরমুখী মানুষের প্রথম দফায় নাকাল হতে হয় ট্রেন-বাস কিংবা লঞ্চের টিকিট সংগ্রহের ক্ষেত্রে। চাহিদার নিরিখে তুলনামূলক কম মানুষের পক্ষেই টিকিট সংগ্রহ করা সম্ভব হলেও তাদের মনে এর পরবর্তী সময়ে যাত্রাপথের শঙ্কা বিরূপ ছায়া ফেলে। একদিকে দুর্ঘটনার ভয় অন্যদিকে সড়ক ও নৌপথে ডাকাতি-চাঁদাবাজির শঙ্কা বিরাজ করায় ঈদযাত্রায় নানারকম অঘটন মোকাবিলা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ঈদে বাড়ি যাওয়া ও ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার ভোগান্তি যেন অনিবার্য নিয়তি হয়ে না দাঁড়ায় তা নিশ্চিত করতে কথা নয় আমরা কাজ দেখতে চাই। বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক-মহাসড়কে নির্দিষ্ট যে ১৫৫টি স্থান যানজট ও জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে সেসব ক্ষেত্রে বাড়তি নজরদারির পাশাপাশি আগাম ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ না করে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

ঈদের সময় অধিক চাহিদা থাকায় ফিটনেসবিহীন যানবাহনে যাত্রী পরিবহনের প্রবণতা যেমন বেড়ে যায়, তেমনি নৌপথে লক্কর-ঝক্কর লঞ্চে রঙ মাখিয়ে ‘নতুন’ করে চালানো এবং এর ফলে সৃষ্ট মর্মস্পর্শী ঘটনায় ঈদ আনন্দ ম্লান হওয়ার মতো ঘটনাও ইতঃপূর্বে কম ঘটেনি। পাশাপাশি ঈদের সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও নতুন নয়। এবারও এরকম চিত্র সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। আমরা আশা করব, এ ব্যাপারে প্রত্যেকটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অধিকতর কার্যকর সক্রিয়তা দৃশ্যমান করে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ভূমিকা নেবেন। বস্তুত সুষ্ঠু যানবাহন ব্যবস্থাপনা, যাতায়াতের সব মাধ্যমে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং বাড়তি আয়োজনের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ যাতে সবার কাছে উপভোগ্য হয়ে ওঠে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, সামাজিক অবক্ষয় ও অস্থিতিশীলতা এবং সুযোগসন্ধানীদের নানারকম অপতৎপরতা জনদুর্ভোগের পাশাপাশি যাত্রাপথে নানারকম ঝুঁকির সৃষ্টি করে। সড়ক-মহাসড়কের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর পাশাপাশি জিইয়ে থাকা অসঙ্গতির চিত্রগুলো যেহেতু অচিহ্নিত নয়, সেহেতু এর সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়াও দুরূহ কিছু নয় বলেই আমরা মনে করি।

দায়িত্বশীল সব পক্ষের যথাযথ কৌশল কাজে লাগাতে পারলে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশেই লাঘব করা সম্ভব হতো। আমরা এও মনে করি, শিল্প-কলকারখানার শ্রমিকদের ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো আমলে রাখতে পারে। ঈদের দিনগুলোতে সবাই বাড়ি যেতে চায় ঈদ উৎসব পালন করে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে। আমাদের অভিজ্ঞতায় এও আছে, ঈদে বাড়ি যাওয়া কিংবা ফেরার পথে যানবাহন চালকদের অপরিণামদর্শিতায় দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। সড়ক দুর্ঘটনা রোধের ব্যাপারে অধিকতর সতর্কতা ও নজরদারির পাশাপাশি সড়ক-মহাসড়কের পাশে যাতে হাটবাজার না বসে এ ব্যাপারে গৃহীত সিদ্ধান্তের যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি। গৃহীত নানামুখী কর্মপরিকল্পনা-কৌশল কিংবা পদক্ষেপ বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার কাঠামোর বিভিন্ন স্তরকেও অঞ্চলভিত্তিক কাজে লাগানো প্রয়োজন। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় ঈদযাত্রা হয়ে উঠতে পারে নিরাপদ ও আনন্দমুখর। তবে পদে পদে দুর্ভোগ ও জীবনের ঝুঁকি নিরসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সদস্যদের সার্বক্ষণিক কঠোর নজরদারির বিকল্প নেই।

যানজটসহ যাত্রাপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠার এবং বহুমুখী জনবিড়ম্বনা নিরসনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত কম নেই। কিন্তু সিদ্ধান্তের যদি যথাযথ বাস্তবায়ন না হয় তাহলে সুফলের আশা দুরাশারই নামান্তর। আমরা এও মনে করি, ঈদযাত্রায় যাতায়াতের সব মাধ্যমেই জনবিড়ম্বনার যে চিত্র দেখা যায় এর নিরসনে একটি শক্তিশালী কমিশনও গঠন করা যেতে পারে। কমিশনের সুপারিশক্রমে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রায় স্বস্তি ফেরার পথ সুগম হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হলে শঙ্কার অপছায়া স্বাভাবিকভাবেই দূর হবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: protidinerbangladesh.pb@gmail.com

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: pbad2022@gmail.com

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: pbonlinead@gmail.com

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: pbcirculation@gmail.com

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা