× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নজর বাড়ান

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৪ ১১:২৭ এএম

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নজর বাড়ান

খুন, ধর্ষণ, হত্যাচেষ্টাসহ নানান অপরাধ বর্তমান সময়ে নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদপত্রের পাতা এবং টেলিভিশনের পর্দা খুললেই দেখা যাচ্ছে এ-সংক্রান্ত নানান খবর। এর সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র সংগঠনগুলোর পেশি আস্ফালন, দুর্বৃত্তদের দুর্বৃত্তপনা, কিশোর গ্যাংয়ের উত্থানও আশঙ্কার। ‘তিন মাসে সহিংসতায় ২৩ জন নিহত, আহত ২৩৬৮’ সংবাদ শিরোনামটি ২ এপ্রিল প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর। বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় গত তিন মাসে নানা রকম সহিংসতা হয়েছে অন্তত ২৬৮টি। এসব সহিংসতায় নিহত হয়েছে ২৩ জন, আহত হয়েছে অন্তত ২ হাজার ৩৬৮ জন। এ ছাড়া এ সময়ে যৌন হয়রানিকেন্দ্রিক সহিংসতার শিকার হয়েছে ৭৯ জন নারী-পুরুষ, যাদের মধ্যে হামলার শিকার ৫৫ জন নারী ও ২৪ জন পুরুষ। প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, গত তিন মাসে গণপিটুনির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৭ জন। একই সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ১৩টি বাড়িঘরসহ দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তরা হামলা ও ১৫টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি মন্দিরেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

খুনসহ অপরাধের এ খতিয়ানই বলছে আইনশৃঙ্খলার কী ‍ুঅবস্থা। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খুনখারাবি, সংঘাত-সহিংসতা এবং রাজনৈতিক হিংসার যে পরিসংখ্যান তাতে চোখ বুলিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব বেশি সন্তোষজনক, এমন বলার অবকাশ কম। এক্ষেত্রে মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবের ফারাকও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেকোনো ধরনের অবনতি যেমন অনভিপ্রেত, তেমনি তা নাগরিক শান্তি এবং স্বস্তি বিঘ্নিত করে।

ঈদ সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের স্রোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আলামত উদ্বেগের। ঈদের লম্বা ছুটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। ঈদে ঘরফিরতি মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার পাশাপাশি ছুটি শেষে মানুষের কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসাও নিরুপদ্রব ‍এবং নির্বিঘ্ন করা জরুরি। ঈদে ফাঁকা রাজধানীতে যেন কোনো অপরাধী তার অপরাধের ছায়া বিস্তার করতে না পারে, সেদিকেও নজর দিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন নাগরিক সচেতনতাও। নিজের বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিতে হবে। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। এগিয়ে আসছে উপজেলা নির্বাচন। এ নির্বাচন ঘিরেও রয়েছে সংঘর্ষের আশঙ্কা। কোথাও কোথাও শাসক দলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিরোধ মাথা চাড়া দেওয়ার খবরও আসছে। স্বার্থসিদ্ধির তাগিদে সংঘর্ষ বাধছে। নিরীহ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, নারী নির্যাতিত হচ্ছে।

আমরা মনে করি, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে দেশের প্রতিটি স্থানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে নজর দিতে হবে। কেন বাড়ছে খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনাÑ এ প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কারণ ক্ষেত্রবিশেষে অপরাধীরা এতটাই বেপরোয়া যে, তারা কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, অনেক ক্ষেত্রেই হত্যা, ছিনতাই, ধর্ষণসহ অন্যান্য অপরাধে যুক্তদের যথাযথভাবে আইনের আওতায় আনতে না পারার ব্যর্থতা থেকেই হত্যা-নৈরাজ্য বাড়ছে। তবে এ কথাও মনে রাখা প্রয়োজন, জনবহুল এই দেশে কে কোথায় কীভাবে অপরাধ সংঘটিত করবে, তা আগাম আন্দাজ করা কঠিন। আবার আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জনবলও এত পর্যাপ্ত নয় যে, তারা প্রতিটি নাগরিককে নজরদারিতে রাখতে পারে। সব সীমাবদ্ধতার কথা মনে রেখেই অপরাধীরা যেন বেপরোয়া হয়ে না ওঠে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। অপরাধীকে শুধু গ্রেপ্তারেই সীমাবদ্ধ থাকা নয়, অপরাধপ্রবণদের বিরুদ্ধেও সক্রিয় হতে হবে। অপরাধপ্রবণরা যাতে অপরাধী হয়ে উঠতে না পারে, সেদিকে নজর দিলে সমাজ অনেক অঘটন থেকে রক্ষা পাবে। ক্রাইম ম্যাপিংয়ে ‘হটস্পট’ চিহ্নিত না করা; খুনি বা অপরাধীকে ভয় দেখানোর ক্ষেত্রে ব্যর্থতা, দুর্বল মামলা এবং তদন্ত রিপোর্ট ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবকে অপরাধবিজ্ঞানীরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির কারণ মনে করেন। তাদের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করে আমরাও বলতে চাই, সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীকে তার প্রাপ্য শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়াও সমাজ থেকে অপরাধ নিরসনে যেসব সুপারিশ সংশ্লিষ্টরা নানা সময়ে রেখেছেন, তা আমলে নিতে হবে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো গেলে অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব। আমরা মনে করি, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিকভাবেও অপশক্তিকে দমন করা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সমাজে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়, যা মোটেই কাম্য নয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: protidinerbangladesh.pb@gmail.com

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: pbad2022@gmail.com

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: pbonlinead@gmail.com

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: pbcirculation@gmail.com

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা