প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৩ ১৩:৩৬ পিএম
আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৩ ১৩:৩৭ পিএম
ফুটবলই আর্জেন্টিনার মানুষের ধ্যান-জ্ঞান। ফুটবলের বাইরে অন্য কিছু নিয়ে ভাবার যেন সময় নেই তাদের। তিন তিনটি বিশ্বকাপ উঠেছে তাদের ঘরে। ফুটবল নিয়ে লাতিন আমেরিকার এ দেশটিতে উন্মাদনা না হয়ে পারে? শতাব্দীর অন্যতম সেরা ফুটবলার কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা আর ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি তো সাধারণ আর্জেন্টাইনদের কাছে অনেকটা ‘ঈশ্বর’-এর মর্যাদায় আসীন হয়ে আছেন!
৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে মেসিরা দেখিয়ে দিয়েছেন- আর্জেন্টিনার মাটিতে ফুটবলের মানেটা ঠিক কী? রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সের রাস্তায় লাখ লাখ মানুষের আকাশি নীল-সাদা উৎসব ফুটবল দুনিয়াকে দেখিয়ে দিয়েছে সবটা। কিন্তু বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাসের ঢেউয়ে ভেসে বেড়ানো সেই রোমাঞ্চকর উদযাপনে ছিলেন আবালবৃদ্ধবনিতা, বাদ পড়েনি কেউ। দেশটির বাকি অংশের দৃশ্য বলতে একই ছিল। ফুটবল পাগল সেই আর্জেন্টিনায় কি না নারী ফুটবলাররা বৈষম্যের শিকার! বার্তা সংস্থা এএফপি দিয়েছে এমন মন খারাপ করা এমন খবর।
ফরাসি নিউজ এজেন্সি তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, মেসির প্রিয় জন্মভূমিতে নারীদের ফুটবল খেলাকে এখনও ভালো চোখে দেখা হয় না। আর্জেন্টিনার বেশিরভাগ মানুষ ক্যাথলিক। দেশটির নারীরা এখন সামাজিকভাবে অনেক এগিয়ে গেছেন। ২০২০ সালে স্বেচ্ছায় গর্ভপাতের আইনি অধিকারও পেয়েছেন তারা। আর্জেন্টিনার নারী ফুটবলও এগিয়ে গেছে অনেকটা। তবে নারীদের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের সে ধারা একেবারেই ধীরগতির।
মেসি-ডি মারিয়াদের দেশে নারীরা এখনও পুরোপুরি পেশাদার নন। নারী ফুটবলে পেশাদারি কাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি। তবে উন্নতি যে একেবারেই হয়নি তা কিন্তু নয়। নারী ফুটবল আর্জেন্টিনায় ‘আধা-পেশাদার’-এর স্বীকৃতি পেয়েছে। তা আবার এসেছে ২০১৯ সালে। তবে ফুটবলকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সাহস এখনও পাননি আর্জেন্টাইন নারীরা।
নারীদের খেলাধুলাকেন্দ্রিক মিডিয়া আউটলেট ‘গার্লস উইথ বলস’ নারী ফুটবলার ও কোচদের দুঃখগাথা তুলে ধরে জানিয়েছে, ‘আমাদের অধিকার প্রাপ্য সম্মানটুকু পায় না। আমাদের বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পুরুষ ফুটবলাররা যে জার্সি ফেলে দেয়, সেটাই আমরা পরি। অনুশীলনে দরকারি সরঞ্জামও আমরা পাই না।’ এমন দুর্দশার কারণ- আর্জেন্টিনায় নারী ফুটবলে বিনিয়োগ বলতে একেবারেই কম।
আর্জেন্টিনার ক্লাব ফুটবলের নিচু স্তরে নারীদের কোনো দল নেই। এ কারণে তৃণমূল পর্যায় থেকে নারী ফুটবলাররা উঠে আসতে পারছেন না। স্কুলেও মেয়েরা ফুটবল খেলার তেমন কোনো সুযোগ পান না। পেশাদার চুক্তি না থাকায় ইনজুরিতে পড়লে চিকিৎসার সুযোগও পান না নারীরা। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে অনুশীলন চালাতে হয়। যথেষ্ট আয় না থাকায় নারী ফুটবলাররা নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগও পান না। বেঁচে থাকার জন্য খাবার জোগাড় করতেই সারা দিন খাটতে হয় তাদের। খেলার সুযোগ পান না বললেই চলে। নারীদের খেলতে হয় কৃত্রিম ঘাসে। প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠে খেলেন শুধু ছেলেরা। গায়ের জার্সিও থাকে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বড় সাইজের। এক কনফারেন্সে ফুটবলার হুলিয়া পাজ দুপে বলেছিলেন, ‘আমরা কৃত্রিম ঘাসে খেলি। জার্সিও বেশ বড় আর বেঢপ।’
ঘরোয়া ফুটবলের বাজে অবস্থার পরও সব বাধা অতিক্রম করে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন আর্জেন্টিনার নারীরা। ২০ জুলাই অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে গড়াতে যাচ্ছে নারীদের ফুটবলের বৈশ্বিক আসর। ফুটবলের এ মহাযজ্ঞে নিজেদের মেলে ধরতে এখন প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এর আগে তিনবার বিশ্বকাপ খেললেও এখনও জয়ের দেখা পাননি তারা। আর্জেন্টিনার নারীদের সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০০৬ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জয়।