× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অন্যলোকে ‘দ্য প্রফেসর’

নজরুল ইসলাম

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:০৭ পিএম

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:১৬ পিএম

মারিও জাগালো (১৯৩১-২০২৪)

মারিও জাগালো (১৯৩১-২০২৪)

ফুটবলের সঙ্গে মারিও জাগালোর সম্পর্কটা অনেক গভীরে। বিশেষ করে ব্রাজিলের ফুটবলে। তিনি তো অবিস্মরণীয় এক চরিত্র। যাকে ছাড়া সেলেসাওদের ফুটবল ইতিহাসই থেকে যাবে অসম্পূর্ণ। সাম্বা ফুটবলের অন্যতম কারিগর তিনি। নান্দনিক আর ছন্দময় ফুটবলের সেই অন্যতম রূপকার যে সব সম্পর্ক ছেদ করলেন। পাড়ি জমালেন অন্যলোকে।

তার মহাপ্রয়াণে ফুটবল দুনিয়ায় নেমেছে শোকের কালো ছায়া। ৯২ বছরে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেও ফুটবল দুনিয়ার ইতিহাসে মারিও জাগালোর নাম লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে। যতদিন ধরণি টিকে থাকবে; যতদিন ফুটবল উন্মাদনা মাতাবে ক্রীড়াপ্রেমীদের; ততদিন তার পায়ের জাদুতে ফুটবল মাঠে ফুল ফোটানোর উপাখ্যান রচে বেড়াবে অনুরাগীদের মুখে।

তবে ব্রাজিল ফুটবলে জাগালোর আবির্ভাব এমন নয় যে, এলাম, দেখলাম আর জয় করলাম। লাতিন ফুটবলারদের বেলায় এই কথাটি কোনোভাবেই যায় না। জাগালোও ঠিক ধূমকেতুর মতো হাজির হয়ে ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাস পাল্টে দেননি। বরং দৃঢ় সংকল্প, অদম্য প্রত্যয় আর কঠোর পরিশ্রমের ফসলই কিংবদন্তির আসনে বসিয়েছে তাকে। মারাকানা ট্র্যাজেডির কথা নিশ্চিত মনে আছে সবার। ব্রাজিলের সেই দুঃখগাথা থেকেই জাগালোর উত্থান। ১৯৫০ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপটা প্রায় জিতেই ফেলেছিল ব্রাজিল। কিন্তু শেষদিকে উরুগুয়ের চমকে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যায়। ফাইনালে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত হারে রিওডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে নেমে আসে গোরস্তানের নীরবতা। অবিশ্বাস্য হারে ব্রাজিলজুড়ে ছিল একই চিত্র। জাগালো তখন সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন। সেনাসদস্য হিসেবে সেই চরম হতাশার ফাইনালে দর্শকদের নিয়ন্ত্রণের কাজও সামলে ছিলেন। কিন্তু ব্রাজিলের অন্যান্য ফুটবলপিয়াসীর মতো তার মনে দারুণভাবে নাড়া দিয়ে যায় সেই বিয়োগান্তক ফাইনালের নিস্তব্ধতা।

পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি গড়নের জাগালো মনে মনে নতুন পণ করেন। ফুটবল নিয়ে নতুন চিত্রনাট্য লিখতে থাকেন। যেখানে নায়ক তিনি। সেনাবাহিনী ছেড়ে ফুটবলে পা রেখে জাগালো নিজের সেই স্বপ্ন পূরণ করে তবেই শান্ত হয়েছেন। ফুটবলার বনে যাওয়ার আট বছর পর সাফল্যের মুখ দেখেন জাগালো। ১৯৫৮ সালে সুইডেনকে হারিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল। বিশ্বজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। ছন্দটা ধরে রেখে ফুটবলার হিসেবে ১৯৬২ সালেও জাগালো নিজের প্রিয় জন্মভূমিকে উপহার দেন বিশ্বকাপ। টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের পর ১৯৬৪ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারকে গুডবাই জানান। ফুটবল লিজেন্ড হিসেবে জাগালোর রূপকথার গল্পটা সেখানেই থেমে যায়নি, বরং তার সাফল্যের কাহিনী পাড়ি দিয়েছে আরও অনেকটা পথ।

খেলোয়াড়ি জীবনে ইতি টানলেও ফুটবলের টান আর ভালোবাসায় মাঠে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কোচিংয়ে চোখ রাখেন জাগালো। বনে যান ‘মাস্টার ট্যাকটিশিয়ান’। পেয়ে যান ‘দ্য প্রফেসর’ খেতাব। তবে জাগালো ‘দ্য উলফ’ বা ‘বুড়ো নেকড়ে’ হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যান। সেটা অবশ্য তার ডাক নামের কারণে। তাকে ডাকা হতো ‘লোবো’ বলে। পর্তুগিজ শব্দটির অর্থ উলফ বা নেকড়ে। নেকড়ের মতো শিকারের কৌশল আর মেধা না থাকলে হয়তো ফুটবলার ও কোচ হিসেবে এত সাফল্য পেতেন না। নেকড়ে ডাকনামটাই জাগালোর ভেতরের ভিন্ন মানুষটিকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলেছিল। যে কারণে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। জাগালো হয়ে পড়েন দিগ্বিজয়ী।

জাগালো অবসরে যাওয়ার পর ১৯৬৬ সালে ব্যর্থতার গল্প লেখে দক্ষিণ আমেরিকা ফুটবল পরাশক্তিটি। পরে ১৯৭০ সালে জাতীয় দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। ৩৮ বছর বয়সে ব্রাজিলের ডাগআউটে এসে আরেক ইতিহাস গড়েন জাগালো। প্রথম খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়েন। ১৯৭৪ বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের কোচ ছিলেন জাগালো। কিন্তু আর পেরে ওঠেননি তারা। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল ফুটবলে ফের জাগরণ নিয়ে আসেন। ফুটবলের পাওয়ার হাউস জেতে চতুর্থ বিশ্বকাপ। এ আসরে কোচ কার্লোস আলবার্তো পেরেইরার সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেন জাগালো। ২০০২ সালে ব্রাজিলের পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের মিশনের উপদেষ্টা ছিলেন ‘দ্য প্রফেসর’। তার মানে ব্রাজিলের সবকটি বিশ্বকাপ জয়ের অভিযাত্রায় মধ্যমণি ছিলেন ‘বুড়ো নেকড়ে’। আর আজ তার চিরবিদায়ের মধ্য দিয়ে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি দেখল ফুটবল দুনিয়া। কেননা জাগালো যে ব্রাজিলের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের সবশেষ সদস্য হিসেবে জীবিত ছিলেন এতদিন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: protidinerbangladesh.pb@gmail.com

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: pbad2022@gmail.com

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: pbonlinead@gmail.com

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: pbcirculation@gmail.com

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা